Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
বিনাবেতনে পাঠদান ৭০ বছর
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় পাকিস্তান

সৌদিতে হুতিদের হামলা, পাকিস্তান কোথায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
agamir somoy
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৩০
সৌদিতে হুতিদের হামলা, পাকিস্তান কোথায়

সৌদি আরবের মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর কথা বলছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ফাইল ছবি/ রয়টার্স

ইরান যুদ্ধের চরম উত্তেজনার মুহূর্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার আলোচনা শুরু করে পাকিস্তান। একপর্যায়ে ইসলামাবাদের হাত ধরে সাময়িক শান্তিচুক্তিও হয়েছিল। এতে দেশটি নিজেকে আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বিশ্বে তুলে ধরতে সক্ষম হয়।

এরপর গত মাসে পাকিস্তান কূটনীতিতে বড় একটি পদক্ষেপ নেয়। সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে।

ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কায় গত ৭ আগস্ট চুক্তিটি সই হয়। এর নাম ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এই ধারা ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই ধারাকে সরাসরি ন্যাটোর মতো সামরিক প্রতিক্রিয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

চুক্তি সইয়ের এক মাসের মধ্যে এর বাস্তব পরীক্ষা শুরু হয়।

গত ৮ সেপ্টেম্বর ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার লক্ষ্য ছিল দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো। হঠাৎ করেই কাগজে থাকা একটি প্রতিশ্রুতি বাস্তব সামরিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।
জেদ্দায় হুতিদের হামলার পর সৌদি আরামকোর একটি পেট্রোলিয়াম মজুত কেন্দ্রে আগুন থেকে ধোঁয়া উঠছে। ফাইল ছবি / রয়টার্সকিন্তু সৌদি আরবের পাশে সামরিক অভিযানে যায়নি পাকিস্তান বা তুরস্ক। দুই দেশই কঠোর কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে।

এখানেই পাকিস্তানের সামনে বড় প্রশ্নটি তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি কীভাবে রক্ষা করবে ইসলামাবাদ? একই সঙ্গে কীভাবে এড়াবে মধ্যপ্রাচ্যের আরও বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া?

হুতিদের হামলার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, পাকিস্তান চুক্তির শর্তের প্রতি ‘বাধ্য’ এবং প্রয়োজন হলে তা পালন করবে।

কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান পরে অবস্থানটি স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান নিয়ে তখন কোনো আলোচনা হচ্ছিল না।

১০ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, ‘পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে, এটি একটি বাস্তবতা। কিন্তু এই মুহূর্তে এ ধরনের কোনো আলোচনা নেই।’

এই দুই বক্তব্যের মধ্যেই চুক্তিটির বড় বাস্তব সমস্যা দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে সৌদি আরবের পাশে থাকা এক বিষয়। সরাসরি যুদ্ধে নামা আরেক বিষয়।

পাকিস্তানের সামনে কঠিন পরীক্ষা

সৌদি আরবে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দুদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও বেড়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান আলাদা একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছিল। এর আওতায় সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে।

এ বছরের এপ্রিলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমানসহ পাকিস্তানি সেনারা কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। তাদের দায়িত্ব ছিল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় সহায়তা করা।

কিন্তু সৌদি ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সহায়তা করা এবং ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া এক বিষয় নয়।

পাকিস্তানের জন্য এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় অঞ্চল সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখা এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা ২০১৫ সালের মতো। তখন ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে যোগ দেওয়া নিয়ে পাকিস্তান বড় ধরনের দ্বিধায় পড়েছিল।

সে সময় পাকিস্তানের পার্লামেন্ট ইয়েমেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন

লোহিত সাগরে গুরুত্বপূর্ণ আরও দুই দ্বীপ দখলে নিল হুতিরা

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্তমান পরিস্থিতিতেও পাকিস্তান ও সৌদি আরব দুপক্ষই বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চাইছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

ইসলামাবাদভিত্তিক সানোবার ইনস্টিটিউটের প্রধান কামার চিমা বলেছেন, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত সৌদি ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ুক— এটি কোনো দেশই চায় না।

তার মতে, এই জোট মূলত রাষ্ট্রীয় হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সৌদি আরবও কৌশলগতভাবে এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো খুঁজছে, যাতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি সংকটের পুনরাবৃত্তি না হয়।

কিন্তু হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও বাড়লে এই ভারসাম্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।


হুতিদের কারণে নতুন চাপ

পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি এখন অনেকটাই হুতিদের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

জুলাইয়ে হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌঅবরোধ ঘোষণা করে। তারা এটিকে ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এর আগে সৌদি আরব হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অবকাঠামোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এরপর ইয়েমেনে উত্তেজনা বাড়ে। সানা বিমানবন্দরে হামলার পাশাপাশি সৌদির বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাও হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য হয়।

পাকিস্তানি ওই কর্মকর্তার মতে, সৌদি আরব এখন মনে করছে হুতিদের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে রিয়াদ।

এদিকে পাকিস্তানও সৌদি নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিয়েছে। ৩০ জুলাই রিয়াদে ৪০টির বেশি দেশের সামরিক প্রতিনিধিদের বৈঠকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, বাংলাদেশ ও জর্ডানসহ ১৪টি দেশ উদ্যোগটিতে সমর্থন দিয়েছে। এর লক্ষ্য বাব আল-মান্দাব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

পাকিস্তান আরও আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কম্বাইন্ড টাস্ক ফোর্স-১৫০-এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।

তবে ইসলামাবাদের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য এখন সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো।

সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে হুতিদের ড্রোন হামলার দৃশ্য। ফাইল ছবি / রয়টার্স

পাকিস্তানি ওই কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, হুতিদের হামলা আরও বাড়লে বা সৌদিতে থাকা পাকিস্তানি সেনারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লে পাকিস্তানের ভেতরে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে।

তখন বর্তমান অস্পষ্ট অবস্থান সরাসরি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির পরীক্ষায় পরিণত হবে।

কামার চিমার মতে, এই মুহূর্তে হুতিদের ওপর সরাসরি হামলা পাকিস্তানের জন্য কোনো বিকল্প নয়।

তার মতে, পাকিস্তান নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরেছে। তাই ইসলামাবাদ সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং এডেন উপসাগরের নৌ চলাচল ব্যাহত হলে তা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


সামনে বড় বাধা ইরান

পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে জটিল বিষয় হলো ইরান।

দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তটি দুর্গম ও অনেক জায়গায় সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তাই দুই দেশই নিয়মিতভাবে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দুই দেশ একে অপরের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। পরে অবশ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়।

এখন পাকিস্তান যদি ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, তাহলে ইরানের সঙ্গে আবার সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

হুতিদের প্রধান সমর্থক ইরান। তবে তাদের সহায়তার ধরন ও মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে।

পাকিস্তান যদি ইরানের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামে, তাহলে তেহরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা চাপ তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতাও রয়েছে।

ইরানের বাইরে বিশ্বের অন্যতম বড় শিয়া জনগোষ্ঠীর দেশ পাকিস্তান। দেশটির শিয়া জনগোষ্ঠীর একটি অংশ ধর্মীয় বিষয়ে তেহরানের দিকনির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত।

ফলে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানে যে সহিংসতা তৈরি হয়েছিল, সামরিক নেতৃত্ব তা নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। তবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীলতা আবার সামনে আসতে পারে।

ইরানের তেহরানে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ফাইল ছবি / রয়টার্সঅর্থনৈতিক ঝুঁকিও কম নয়। পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দেশটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত পাকিস্তানের বাজারে পড়ে। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময়ও মাত্র এক সপ্তাহে দেশটিতে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল।

তাই হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে যাওয়া শুধু পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে পাকিস্তানের নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতিও জড়িত।


তিন দেশের নিরাপত্তা ভাবনা এক নয়

ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটের আরও একটি বড় সমস্যা আছে। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার এক নয়।

পাকিস্তানের প্রধান সামরিক উদ্বেগ ভারত। এর পাশাপাশি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে সীমান্ত ও নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনাও পাকিস্তানের হিসাবকে জটিল করেছে।

সৌদি আরবের অগ্রাধিকার আলাদা। দেশটির মূল লক্ষ্য নিজের ভূখণ্ড, জ্বালানি অবকাঠামো ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ইরান ও হুতিদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি মোকাবিলা করা।

তুরস্কের নিরাপত্তা ভাবনা আরও বিস্তৃত। সিরিয়া, ইরাক, পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও ককেশাস— সবই আঙ্কারার নিরাপত্তা হিসাবের অংশ।

তাই একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়। এক দেশের এমন কোনো যুদ্ধে অন্য দুই দেশ কি বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত মূল্য দিতে প্রস্তুত হবে, যে যুদ্ধকে তারা নিজেদের যুদ্ধ বলে মনে করে না?

এটি শুধু রাজনৈতিক প্রশ্ন নয়। সামরিক বাস্তবতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তিন দেশের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি এক নয়।

আরও পড়ুন

মক্কা জোট কতটা কার্যকর হবে

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরব পশ্চিমা ও মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। পাকিস্তানের হাতে চীনা প্রযুক্তির বিপুল অস্ত্র রয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমা সরঞ্জামও আছে।

তুরস্ক আবার নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে অনেক বড় করেছে। এই ভিন্ন সামরিক ব্যবস্থা একসঙ্গে পরিচালনা করাও সহজ নয়।


জোট এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি

মক্কা চুক্তি এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোটে পরিণত হয়নি। বরং এটি একটি কাঠামো তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মন্ত্রী ও সামরিক কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। সেখানে সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় গঠন এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনো তিন দেশের মধ্যে কোনো সমন্বিত সামরিক কমান্ড তৈরি হয়নি।

চুক্তির অধীনে বিমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কীভাবে হবে, গোয়েন্দা তথ্য কীভাবে ভাগ করা হবে, সৌদি সামরিক স্থাপনা ও নৌ অভিযানে কে কীভাবে সহায়তা করবে—এসব বিষয় এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযানে তিন দেশ কী করবে।

কামার চিমা বলেছেন, তিন দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌথ পরিকল্পনা ও সামরিক সক্ষমতার সমন্বয় গড়ে তুলতে আরও অনেক কাজ বাকি।

তার মতে, রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয়— দুই ধরনের হুমকির ক্ষেত্রে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, সেটিও স্পষ্ট করতে হবে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খানও চুক্তিটির সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন।

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর একদল সদস্য। ফাইল ছবি / রয়টার্সতিনি এটিকে একটি ‘ছাতার মতো চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এর আওতায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সময় লাগবে।

তিনি বলেছেন, ‘এই পর্যায়ে আমি মনে করি না, চুক্তিটিকে কীভাবে কার্যকর করা হবে— এভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা উচিত।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি ব্রিফিংয়েও একই অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, মক্কা চুক্তিটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক। তিন দেশকে আগে নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।


আসল পরীক্ষা এখন

মক্কায় সই হওয়া চুক্তিটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামো তৈরি করেছে।

কিন্তু হুতিদের হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, চুক্তির কাগুজে প্রতিশ্রুতি আর বাস্তব সামরিক পদক্ষেপ এক জিনিস নয়।

একদিকে পাকিস্তান বলছে, প্রয়োজন হলে চুক্তির শর্ত পালন করবে। অন্যদিকে সরাসরি ইয়েমেনে সামরিক অভিযান নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা নেই।

সৌদি আরবের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশটি নিজের ভূখণ্ড, জ্বালানি স্থাপনা ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তার জন্য নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মুনিরকে স্বাগত জানাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ফাইল ছবি / রয়টার্সপাকিস্তানের জন্য চ্যালেঞ্জটি আরও জটিল। তাকে একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা অংশীদার, ইরানের প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হচ্ছে।

হুতিদের হামলা আরও বাড়লে এই ভারসাম্য কতটা ধরে রাখা সম্ভব হবে, সেটিই এখন মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

কারণ চুক্তির আসল শক্তি শুধু ‘একজনের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা’— এই ঘোষণায় নয়। আসল পরীক্ষা হবে, সেই ঘোষণার পর তিন দেশ বাস্তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই 


মক্কা চুক্তিপাকিস্তানসৌদিতে হুতিদের হামলা
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    কাদের-নাছিম-আরাফাতদের কার কত সম্পদ?

    কাদের-নাছিম-আরাফাতদের কার কত সম্পদ?

    শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে প্রি-ওপেনিং ও বাইব্যাক চালুর দাবি

    শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে প্রি-ওপেনিং ও বাইব্যাক চালুর দাবি

    হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে রাস্তায় সন্তান প্রসব, ঘটনাটি নোয়াখালীর নয় নেপালের

    হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে রাস্তায় সন্তান প্রসব, ঘটনাটি নোয়াখালীর নয় নেপালের

    মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা

    মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা

    ‘বাক্‌স্বাধীনতা অভূতপূর্ব’ উপদেষ্টা বলার পর টিআইবি দেখাল ৫২টি ঘটনা

    ‘বাক্‌স্বাধীনতা অভূতপূর্ব’ উপদেষ্টা বলার পর টিআইবি দেখাল ৫২টি ঘটনা

    গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের ধাক্কা নিট পোশাকে, কমল রপ্তানির অর্ডার

    গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের ধাক্কা নিট পোশাকে, কমল রপ্তানির অর্ডার

    ভারতকে ১০০% শুল্কের তালিকায় কেন রাখতে চান মার্কিন আইনপ্রণেতারা

    ভারতকে ১০০% শুল্কের তালিকায় কেন রাখতে চান মার্কিন আইনপ্রণেতারা

    এমপি আমির হামজার শাস্তির দাবিতে মহিলা দলের ঝাড়ু মিছিল

    এমপি আমির হামজার শাস্তির দাবিতে মহিলা দলের ঝাড়ু মিছিল

    দরিদ্র তালিকায় খরচ বাড়ল ১৭৯৪ কোটি টাকা

    দরিদ্র তালিকায় খরচ বাড়ল ১৭৯৪ কোটি টাকা

    দুই বছর পর বাড়িতে গিয়ে গ্রেপ্তার যুবলীগ সভাপতি

    দুই বছর পর বাড়িতে গিয়ে গ্রেপ্তার যুবলীগ সভাপতি

    বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে চুরির গরু, তদন্তে পুলিশ

    বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে চুরির গরু, তদন্তে পুলিশ

    কড়া নাড়ছে এজিআই

    কড়া নাড়ছে এজিআই

    সাদ্দাম-ইনানদের ফাঁসির রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

    সাদ্দাম-ইনানদের ফাঁসির রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

    বিনাবেতনে পাঠদান ৭০ বছর

    বিনাবেতনে পাঠদান ৭০ বছর

    ‘ভয়ের মুখোমুখি হতে চেয়েছিলাম...’

    ‘ভয়ের মুখোমুখি হতে চেয়েছিলাম...’