বদলে যাচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ

যেকোনো বিশেষ্যর আগে জাতীয় বিশেষণটা জুড়ে গেলেই সেটির মান নিম্ন মাঝারি পর্যায়ে নেমে আসে, বাংলাদেশে এই চিত্রটা মোটামুটি চিরন্তন। এই যেমন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়... ইত্যাদি। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে জাতীয় ক্রিকেট লিগও ছিল এ রকম। তারকা ক্রিকেটাররা খেলেন না, ঢাকা থেকে বসে নির্বাচকরা বিভিন্ন বিভাগের নামে দল গড়ে দেন। ফলে যে ক্রিকেটারের ওই অঞ্চলের সঙ্গে কোনো সংশ্লেষই নেই, তাকে সেই দলের হয়ে খেলতে হয়। জাতীয় লিগের নাম তাই হয়েই গিয়েছিল পিকনিক ক্রিকেট। তবে কয়েক বছর ধরে জাতীয় লিগে বেড়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, উন্নত হয়েছে খেলার মান আর বেড়েছে প্রতিযোগিতা। আগামী আসর থেকে ম্যাচগুলো হবে কোকাবুরা বলে, ম্যাচ ফি দেড় লাখ টাকা আর প্রত্যেক বিভাগীয় দল মাঠে নামবে নিজস্ব বিভাগের প্রতীকখচিত নির্দিষ্ট রঙের টুপি মাথায়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রচলিত তিন সংস্করণে সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টেই বাংলাদেশের সাফল্য বেশি। অস্ট্রেলিয়াকে ডারউইনে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল, পাকিস্তানকেও হারিয়েছে দেশের মাটিতে। এই সাফল্যের পেছনে বাংলাদেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হিসেবে এনসিএলের অবদান অনেক বলেই মনে করেন সিলেট বিভাগীয় দলের অধিনায়ক জাকির হাসান। ১৩ টেস্ট খেলা জাকির মনে করেন, দেশের পেস বোলারদের বিপক্ষে খেলার আত্মবিশ্বাসই সাহায্য করেছে টেস্টের উন্নতিতে, ‘আমি মনে করি, আমাদের বোলিংয়ের মান এখন বেড়েছে, যে কারণে আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলছি, ম্যাচ জিতছি। এখন আমাদের কিন্তু ঘণ্টায় ১৩৫-১৪০ কিলোমিটার গতির বল খেলতে খুব বেশি সমস্যা হয় না। কারণ আমাদের এই ধরনের বোলার আছে।’ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর দলের অধিনায়ক আকবর আলি বলেছেন, ডিউক বলের জায়গায় কোকাবুরার ব্যবহার শুরু হলে ব্যাটাররা একটু স্বস্তি পাবে, ‘ডিউক বলে আমাদের জন্য একটু কঠিন সময় গেছে, বোলারদের জন্য ভালো ছিল। যেহেতু ডিউক বল অনেক বেশি সময় সুইং করে। এখন যেহেতু কোকাবুরা, আমি আশা করব যে, আরেকটু রান আসবে টুর্নামেন্টে। তবে কোকাবুরার সেলাইটাও কিন্তু এখন একটু খাড়া করে দিয়েছে, বোলাররা এই বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মানিয়েও নিয়েছে। এখন একটা ভারসাম্যে আসবে খেলাটা।’
বুধবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যেক বিভাগীয় দলের অধিনায়কের হাতে তুলে দেওয়া হয় নিজ নিজ বিভাগের জন্য নির্ধারিত রঙের নতুন ব্যাগি টুপি। টেস্ট অভিষেকের সময় একজন ক্রিকেটার যে রকম টুপি পান, বিভাগীয় দলেও সে রকম টুপি দলের পরিচিতি সুদৃঢ় করবে, আর খেলোয়াড়দেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক ইয়াসির রাব্বি, ‘আমার জাতীয় লিগে অভিষেক ২০১২ সালে, এবারই প্রথম দেখলাম যে, ব্যাগি টুপি দেওয়া হলো এবং শুরুর আগে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন হলো। আমরা যারা টেস্ট ক্রিকেট পছন্দ করি, সবাই জানি ব্যাগি টুপিটা কতটা সম্মানের।’
এবারের জাতীয় লিগে প্রতি ম্যাচের জন্য ম্যাচ ফি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা আগের মৌসুমের দ্বিগুণেরও বেশি। খুলনার অধিনায়ক ও ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন মনে করলেন সেই পুরনো দিনের কথা, ‘আমার অভিষেক ২০০৬ সালে। তখন দৈনিক ভাতা ছিল ৮০০ আর পুরো মৌসুম খেললে পাওয়া যেত ৫০ হাজার টাকা। সেখান থেকে এখন এই জায়গায় এসেছে, এটা আরও অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।’
মিঠুনের পাশেই বসেছিলেন বরিশালের অধিনায়ক ইফতিখার হোসেন। স্মিত হেসে জানালেন, মিঠুনের প্রথম জাতীয় অভিষেকের সময় তার বয়স ছিল মাত্র চার!
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের পরিকল্পনায় জাতীয় লিগের আগামী মৌসুম থেকেই কাউন্টির আদলে প্রতিটি দলের সঙ্গে থাকবে একটি দ্বিতীয় একাদশ বা রিজার্ভ দল, মূল দলের পাশাপাশি এই দলগুলো খেলবে তিন দিনের ম্যাচ। সব মিলিয়ে অনেক পরিবর্তন এনেই ৩ অক্টোবর থেকে মাঠে গড়াবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২৮তম আসর। প্রথম রাউন্ডে সিলেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে সিলেট ও ময়মনসিংহ, ঢাকায় লড়বে ঢাকা ও রংপুর, খুলনায় মুখোমুখি হবে খুলনা ও বরিশাল আর চট্টগ্রামের সাগরিকায় মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী।



