গ্যাসে সাময়িক স্বস্তি, বেড়েছে লোডশেডিং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে উন্নতি হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। যদিও এই স্বস্তি কতদিন স্থায়ী হয়, তা নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে গতি ফিরলেও কয়লা সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কমেছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। এর বাইরে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও ঊর্ধ্বমুখী। এতে
নতুন ঘণ্টা যুক্ত হয়েছে লোডশেডিংয়ে। তীব্র গরমে বিদ্যুতের অভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার অস্থির হওয়ায় পূর্ণ সক্ষমতায় এলএনজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসেরও উৎপাদন কমছে প্রতিনিয়ত। গত দুই বছরে দেশি কূপ থেকে গ্যাসের উৎপাদন কমেছে প্রায় ৪১ কোটি ঘনফুট। এ কারণে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অবনতি হবে, যতক্ষণ না জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ না বাড়ে।
এদিকে, পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর প্রশাসক ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য। নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আগামীর সময়কে জানালেন, এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় শিল্পেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে সাভার-আশুলিয়া এবং আরও কিছু এলাকায় এখন পর্যন্ত উন্নতি হয়নি।
তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ আগামীর সময়কে জানালেন, গ্যাস সরবরাহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। দুই মাস আগে গ্যাস পরিস্থিতি যেমন ছিল, ধীরে ধীরে সেই অবস্থানে যাচ্ছে।
সংকটের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা এখন দেশীয় গ্যাস উৎপাদন। গত ২১ জুলাই দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক উৎপাদন ছিল ১৬৫ কোটি ঘনফুটের ওপরে। সেটি এখন নেমে এসেছে ১৬১ কোটি ঘনফুটে।
এলএনজি আমদানির ব্যয়ও বড় চাপ তৈরি করছে। কারণ, এরই মধ্যে দাম বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়েছে। দফায় দফায় দরপত্র দিয়েও সব কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না।
গ্যাস দুর্যোগের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে ৮০-৮৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯৫ কোটি ঘনফুটের মতো। যদিও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২৫০ কোটি ঘনফুট। সেখানে ১০০-১২০ কোটি ঘনফুট দিয়ে কোনোমতে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪০০-৫৫০০ মেগাওয়াট। তবে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বেড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। এতে পিডিবির লোকসান বাড়ছে। গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক বেড়েছে লোডশেডিং।



