নিউ ইয়র্ক সফর সংক্ষিপ্ত করছেন তারেক রহমান, নিচ্ছেন না সংবর্ধনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি: পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাত্র ৪ দিনের সফরে নিউ ইয়র্ক আসছেন। এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান। আসছেন ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। দেশে রওনা হবেন ২৫ সেপ্টেম্বর রাতেই।
আগে পরিকল্পনা ছিল সফর হবে ৯ দিনের, কিন্তু তা নেমে এসেছে ৪ দিনে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি যে নাগরিক সংবর্ধনা দিতে চেয়েছিল, তা আয়োজনের সুযোগ আর থাকছে না।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী আগামীর সময়কে জানান, প্রধানমন্ত্রী ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর মধ্যে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর দেশের পথে রওনা হবেন।
‘গুরুত্বপূর্ণ কোনো কর্মসূচি না থাকলে নিউ ইয়র্কে বসে থাকার কোনো কারণ থাকতে পারে না,’ বলছিলেন তিনি।
তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত সফর নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে নিউ ইয়র্কে। কারণ অতীতে প্রধানমন্ত্রীদের দেখা যেত বড় বহর নিয়ে দীর্ঘ সফর করতে। সেই সফরসঙ্গীর তালিকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনরাও থাকতেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফরের সময় দেখা গেছে, নিউ ইয়র্কের গ্রান্ড হায়াত হোটেলে টানা ২১ দিন ছিলেন তিনি। তার সফরসঙ্গীদের হোটেলে থাকার পেছনে লাখ লাখ ডলার ব্যয় হতো। ঢাকা থেকে বিশেষ ফ্লাইট উড়িয়ে এনে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে বসিয়ে রেখে কয়েক লাখ ডলার পার্কিং ফিও গুনতে হতো।
বিপরীতে তারেক রহমান সফর করছেন ছোট একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে। তা ব্যক্তিগত ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারাই সফরসঙ্গী হচ্ছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে।
আগে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তারেক রহমানের সফর হবে ২১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর। তার সানফ্রান্সিসকো যাওয়ারও কথা ছিল। কিন্তু তিনি এই সফরটি বাতিল করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র বলছে, ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে সংক্ষিপ্ত সফরের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের তার কৃচ্ছ্রসাধনের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
নাগরিক সংবর্ধনা বাতিল
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবর্ধনা নেবেন কিংবা তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্তই ছিল না। তবে সংবর্ধনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়— নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট, জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা আলোচনা করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ এই সংবর্ধনা সভা নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকায়ও গিয়েছিলেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের লাখ লাখ ডলার খরচ করে তারেক রহমান সংবর্ধনা নিতে আগ্রহী নন। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে সংবর্ধনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
তখন গিয়াস আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে জানিয়েছিলেন, দলীয় উদ্যোগে সংবর্ধনা দেওয়া হবে তারেক রহমানকে।
সেজন্য ২৫ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের ম্যারিয়ট মারকুইস হোটেলে বুকিং দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্ষিপ্ত হওয়ায় পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দিয়ে পরদিনই দেশে ফিরছেন। ফলে ২৫ সেপ্টেম্বর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার থাকা হচ্ছে না।
সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে গিয়াস আহমেদ বুধবার আগামীর সময়কে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় সংবর্ধনা সম্ভব নয়।’
তবে ২৫ সেপ্টেম্বর বিকালে তারেক রহমান স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাক্ষাৎ দেবেন বলে জানান গিয়াস।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। তবে সংবর্ধনা হচ্ছে না।’
১৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের কর্মসূচিগুলো তুলে ধরবেন বলে জানান জিল্লুর।



