জগন্নাথ ভার্সিটি হয়ে গেছে তারেক বিশ্ববিদ্যালয় : পাটওয়ারী

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি: ভিডিও থেকে
গত ১৫ বছর দেশে কত মানবাধিকার কর্মী দেখলাম কিন্তু এখন দেশে আর কোনো মানবাধিকার গোষ্ঠী নেই। সবাই চুপসে গেছে। সেই মায়ের ডাক অর্গানাইজেশন হয়ে গেছে তারেকের ডাক। আবার জগন্নাথ ভার্সিটি হয়ে গেছে তারেক বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে ছাত্রদলের একটি প্রোগ্রামে অফিশিয়াল পেজ থেকে প্রেস রিলিজ দিচ্ছে যে সুন্দরভাবে প্রোগ্রাম হয়েছে। শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়, আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলামোটরে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘এসআরবি, গুম ও সাইবার আইন : মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্মিলিত আয়োজন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমাদের কয়েকটি সংকটের জায়গা তৈরি হয়েছিল। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ছিল। কিন্তু সেসময় বিএনপি বলেছিল এ অবস্থা থেকে উত্তরণ পেতে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে।
তিনি বলেন, সেসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির জন্য ইশরাক বাহিনীকে মাঠে নামানো হয়। তিনি বলেছিলেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তাকে মেয়র বানাতে। শুধু ঢাকায় না, সারা দেশেই এরকম বাহিনী নামিয়ে দিয়েছিল বিএনপি। তখন প্রতিদিনই বন্দরে মশাল মিছিল দেখতে পেতাম।
জুলাই সনদ নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর আরেক সংকট সৃষ্টি হলো। সব দল মিলে একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছিলাম। কিন্তু এই চুক্তিপত্র প্রথমেই ভেঙে দিল বিএনপি। তারা সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধন শুরু করল।
নাগরিকের অধিকার সচেতনতার অভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিক দেশের আইন সম্পর্কে জানে না। এই অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে বর্তমান সরকার জনগণের সামনে সাইবার সুরক্ষা আইন ও গুমের মতো একটি ভয়ংকর অস্ত্র তুলে ধরেছে।
এনসিপি নেতা বলেন, নিরাপত্তা আমাদের সবারই দরকার। সেটা অনলাইন হোক কিংবা অফলাইন। কিন্তু বিগত পতিত সরকার বিদেশি শক্তির সঙ্গে চুক্তি করেছিল অনলাইনে সবাইকে নজরদারির মধ্যে আনতে। সেজন্য তারা ডিভাইস কিনেছিল তাদের কাছ থেকে। শুনেছি, বর্তমান সরকারও ভেতরে ভেতরে ভারত-ইসরায়েলের শক্তির সঙ্গে এরকম চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আইন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মুসা, রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, আব্দুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস, এবি পার্টি সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতিদিনের রুটিন বিভিন্ন ক্যান্টিনে গিয়ে ডাল চেক করা। মুখে নিয়ে সেই চামচ আবার ডালেই রেখে দিচ্ছেন।



