ইরান যুদ্ধ ‘শেষের দিকে’, দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার গ্যাস্টোনিয়ায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির সমর্থনে আয়োজিত প্রচারণা সমাবেশ শেষে জনতার দিকে তাকিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষের দিকে রয়েছে বলে আশা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন ট্রাম্প। সেখানে যুদ্ধের পরিস্থিতি ও যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
স্থানীয় সময় বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ‘আশা করছি, আমরা যুদ্ধের শেষের দিকে রয়েছি।’
ইরান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়। দেখা যাক, বিষয়টি কীভাবে এগোয়।’ ইরানের কাছ থেকে তিনি সরাসরি কিছু শুনেছেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সময় ইরান যুদ্ধের সপ্তম মাস চলছে। এখনো যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বুধবার রাতে জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে। বৈঠকে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জিসিসির ছয় সদস্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতাদের অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ট্রাম্প বৈঠক করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরান যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় হামলা চালায়। এসব দেশের কয়েকটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
ট্রাম্প যুদ্ধের লক্ষ্য ও সময়সীমা নিয়ে এর আগে একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা দুর্বল করাকে তিনি যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নেই। দেশটি বলে আসছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এদিকে যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী নভেম্বরে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে জ্বালানির বাড়তি দাম ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স




