ক্ষোভের মুখে বিশ্বকাপ বিক্রি বাতিল করল ফিফা

সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ইনফান্তিনো ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যা বিশ্বকাপসহ ফিফার আয় বাড়ানোর খাতগুলোর দেখভাল করত। ফিফা এই নতুন প্রতিষ্ঠানের মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড। তারা এর ২০ শতাংশ শেয়ার বা ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি করার আশা করছিল।
কিন্তু বিভিন্ন ফুটবল কনফেডারেশন, জাতীয় সংস্থা এবং খোদ ফিফার ভেতরে থাকা শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যাপক বিরোধিতার মুখে এই বিতর্কিত পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়েছে।
ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ‘সব পক্ষের মতামত’ শোনার পর তিনি উপলব্ধি করেছেন যে এই ‘প্রকল্পটি বিভাজন তৈরি করেছে’।
ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য সবসময়ই ছিল এবং থাকবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা ও ফুটবলের উন্নয়ন করা। তাই, এই প্রস্তাবটি আর সামনে এগোবে না। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমার লক্ষ্য হলো-আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোয় ফুটবলের সাধারণ স্বার্থের বার্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে ফিরিয়ে আনা।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জশ কুশনারের নেতৃত্বাধীন ‘থ্রাইভ ক্যাপিটাল’ এই বিডে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল এবং জেপি মরগান এতে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছিল।
তবে নিউ ইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুশনারের গ্রুপের এক সূত্র জানিয়েছে, ‘তারা বিষয়টি নিয়ে আর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে না। কোনো অবস্থাতেই তারা এই ঝামেলার মধ্যে নিজেদের যুক্ত রাখতে চায় না। কুশনার এই খাতে যুক্ত হওয়ার অন্য কোনো উপায় খুঁজে নেবেন। ঘটনাটি এখন ব্র্যান্ডের সুনামের জন্য এক বড় ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে।’
উয়েফা প্রধান আলেকজান্ডার চেফেরিন শুরু থেকেই ফিফার এই প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেয় যে— ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ বাস্তবায়িত হলে তারা বিশ্বকাপ বয়কট করবে।
ফিফা তাদের এই পরিকল্পনা টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি অনুমোদিত হলে সদস্য দেশগুলোকে ৩ কোটি পাউন্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিল। কিন্তু ইউরোপের বিশাল বাজার থেকেই মূলত টিভি সম্প্রচার, স্পন্সর এবং সমর্থকদের বড় অঙ্কের বাণিজ্য আসে— তাই উয়েফার বয়কটের হুমকিতে ফিফার প্রস্তাবিত এই চুক্তির মান ধসে পড়ে।
কনকাকাফ এবং এএফসি ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক পরিকল্পনার বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান জানানোর পর প্রস্তাবটি পুরোপুরি ভেস্তে যায়। শুক্রবার সকালেই ইনফান্তিনোর অন্যতম শীর্ষ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরোর পদত্যাগে ফিফা বড় ধরনের ধাক্কা খায়।
ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনার বিষয়টি ফিফার আটজন সহসভাপতির কয়েকজনের কাছ থেকেও গোপন রেখেছিলেন, যেখান থেকে প্রায় ১,০০০ কোটি ডলার (৭৫০ কোটি পাউন্ড) সংগৃহীত হতে পারত।
ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামুর এটিকে ‘একজন ব্যক্তির প্রকল্প’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘একজন প্রেসিডেন্টের কাজ হলো মানুষকে একত্র করা, ঐক্যবদ্ধ করা এবং অনুপ্রাণিত করা, কিন্তু এই ঘটনা ঘটেছে ঠিক তার উল্টো। যদি আমাকে চাকরি হারাতে হয়, তবে তা-ই হোক। আমি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেব এবং সম্মান করব। অন্তত আজ রাতে আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারব।’
ফিফা পরিকল্পাটি বাতিল করায় এখন কেভিন লামুর মত শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন সবাই।




