নিত্যপণ্যেই অস্বস্তি, কাঁচাবাজার নাগালে

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচামরিচসহ কিছু সবজির দাম কিছুটা কমলেও চাল, চিনি, আটা, ডিম ও দুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। মৌসুম ও আবহাওয়ার কারণে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও আটা, চিনি ও তরল দুধের দাম বৃদ্ধিতে অস্বস্তিতে সাধারণ ক্রেতারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কারওয়ান বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশিরভাগ সবজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনায় মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারে এসব সবজি ৫৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা ৪০ টাকা ও পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। গোল বেগুন বাজারভেদে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গত মাসের শুরুতে কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও চলতি মাসে দাম কমেছে প্রায় অর্ধেকের বেশি। বর্তমানে বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১১০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচাবাজারের সবজির দাম তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দাম। মাসের ব্যবধানে চাল, চিনি, আটা, ডিম ও দুধের মতো নিত্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ছে।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত মাসে ছিল ১১০ টাকা। গত মাসে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া আটা এখন ৬৫ টাকা কেজি।
সাধারণ চালের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও পোলাও চাল চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে খোলা পোলাও চাল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং প্যাকেটজাত পোলাও চাল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তরল দুধ প্রতি লিটার ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত মাসে ছিল ১০০ টাকা।
কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা ভর্তি পরীক্ষার্থী হাসানুর বলেন, ‘শাক-সবজির দাম আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম একটু বেড়েছে।’
বাজারে কাঁকরোল ৫০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, কচু ৬০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৩০ টাকা, প্রতি পিস লাউ ৫০ টাকা এবং গোল লাউ প্রতি পিস ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্য আলু ৩০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে।
মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রেতা রিপন মিয়া বলেন, ‘প্রায় প্রতি সপ্তাহেই দাম ওঠানামা করে। তাই দাম একটু বাড়ছে। বেশি দামে কিনলে তো বেশি দামেই বিক্রি করতে হবে।’
নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে খুচরা ব্যবসায়ী রায়হান আবির বলেন, ‘পাইকারি কিনতে হয় বেশি। তেলের কোম্পানি তেলই দিতে চায় না। পাঁচ কার্টন চাইলে দেয় দুই কার্টন। মানুষের তো কিনতেই হবে, তাই দাম বেশি হলেও তারা নিয়ে নেয়।’
এদিকে মাছের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কাঁচাবাজারের অস্থিরতা মৌসুম ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল হলেও আটা, চিনি ও দুধের মতো নিত্যপণ্যের দামের লাগামহীন বৃদ্ধি শুধু সরবরাহ সংকটের কারণে নয়। করপোরেট সিন্ডিকেট, পাইকারি পর্যায়ের অসাধু দালালি ও তদারকির অভাবও এর জন্য প্রধানত দায়ী।
তাদের মতে, খুচরা পর্যায়ে শুধু অভিযান না চালিয়ে আমদানিকারক ও মিলমালিকদের উৎপাদন ও বিক্রয়মূল্য নিয়মিত মনিটরিং করা প্রয়োজন। পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের খোলা বাজারে সরবরাহ বাড়ানো গেলে সাধারণ ক্রেতারা এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে পারেন।





