গ্রেগ চ্যাপেল
ইমরান হয়তো কারাগারেই মারা যাবেন

পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে এবার সোচ্চার হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের কাছে কূটনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাতজন সাবেক টেস্ট অধিনায়ক।
রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী থাকা ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক এই ক্রিকেটাররা। সাতজনের দলটিতে রয়েছেন গ্রেগ চ্যাপেল, অ্যালান বর্ডার, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর এবং স্টিভ ওয়াহর মতো সুপারস্টার। এর মধ্যে গ্রেগ চ্যাপেল ব্যক্তিগতভাবে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সময় চেয়েছেন। অজি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের কাছে পাঠানো চিঠিতে সাবেক অধিনায়কেরা লিখেছেন, ‘গ্রেগ চ্যাপেল ২০২২ সালে ইসলামাবাদে যখন ইমরান খানকে দেখেছিলেন, তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুস্থ, সবল এবং ফিট ছিলেন। বর্তমান আটক অবস্থা থেকে যে খবরগুলো আসছে, তার সঙ্গে সেই চিত্র মেলানো কঠিন। আর তাই আমরা কোনো কূটনীতিক বা রাজনীতিক হিসেবে নয়, বরং সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক হিসেবে আপনাদের কাছে চিঠি লিখছি। কারণ আমরা মনে করেছি আমাদের কথা বলা উচিত।’
ইমরান খানের অবদান স্মরণ করে চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘মি. খান পাকিস্তানকে তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন। তিনি তার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ানরা তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখে। একজন ক্রিকেটার হিসেবে তার দক্ষতা ও নেতৃত্ব খেলাটিতে গভীর ছাপ রেখেছে। পাশাপাশি ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সাহায্য করেছেন।’ ইমরান খানের পক্ষে কেন এই জোরালো আবেদন করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে গ্রেগ চ্যাপেল স্পষ্ট ভাষায় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি যে তিনি কারাগারেই মারা যাবেন!’
চিঠিতে ইমরান খান ও তার পরিবারকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তা তুলে ধরে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বাইরেও ইমরানের সন্তান এবং বোন দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে তার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে প্রকাশ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ইমরানের সীমিত চিকিৎসা ব্যবস্থা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর কড়াকড়ি এবং আইনি সহায়তায় ন্যূনতম প্রবেশাধিকার তাদের মূল উদ্বেগের বিষয়। আমরা তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি বা রাজনৈতিক মামলার কোনো পক্ষ নিচ্ছি না। সেটা পাকিস্তানের নিজস্ব বিষয়। তবে আটক থাকা যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গেই মানবিক আচরণ করা উচিত, তার রাজনীতি যা-ই হোক না কেন।’ অস্ট্রেলীয় সাবেক অধিনায়করা আরও উল্লেখ করেন, গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের তরফ থেকে এই উদ্বেগ দুবার উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।। চিঠির শেষে বলা হয়, ‘অস্ট্রেলিয়ান সরকার যদি সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি উত্থাপন করে, তবে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মি. চ্যাপেল এই বিষয়ে আপনার সঙ্গে একটি বৈঠকের অনুরোধও জানিয়েছেন এবং আমাদের পক্ষে আপনার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার সুযোগটিকে তিনি স্বাগত জানাবেন।’
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী এই সাবেক অধিনায়ক। দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যদিও ইমরান খান এবং তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ইনসাফ (পিটিআই) বরাবরই এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। এর আগেও সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, প্যাট কামিন্স, ব্রায়ান লারা ও ওয়াসিম আকরামের মতো বিশ্বের ২১ জন আন্তর্জাতিক অধিনায়ক ইমরান খানের সঙ্গে মানবিক আচরণের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন।






