ক্যাথল্যাব নেই বরিশাল, রংপুর ও খুলনায়
হৃদরোগী বেশি চট্টগ্রাম ও বরিশালে

প্রতীকী ছবি
দেশে হৃদরোগীর সংখ্যা বেশি চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে। প্রতি হাজারে এ দুই বিভাগে ৩৪-৩৬ জন হৃদরোগে ভুগছেন। অথচ বরিশাল বিভাগে সরকারি বা বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই নেই ক্যাথল্যাব। রংপুরে সীমিত পরিসরে এ সেবা চালু থাকলেও মাঝেমধ্যে বন্ধ থাকে। খুলনা বিভাগেরও কয়েকটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেই ক্যাথল্যাব সুবিধা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভের’ তথ্যে জানা গেছে এই তথ্য। ২০২৫ সালে এই সার্ভে প্রকাশিত হয়। সার্ভের তথ্যানুযায়ী, দেশে প্রতি হাজারে ৩১ জন হার্টের অসুখে ভুগছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব জেলাপর্যায়ে হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ সীমিত। ফলে রোগীদের ছুটতে হচ্ছে বিভাগীয় শহর কিংবা ঢাকায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ এত বেশি, এনজিওগ্রামের জন্য এক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, জেলাপর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের ভোগান্তি কমবে, পাশাপাশি সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগও বাড়বে।
গত বছর প্রকাশিত ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে’ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে প্রতি হাজারে প্রায় ৩৪-৩৬ জন হৃদরোগে ভুগছেন। খুলনা ও রাজশাহীতে এ সংখ্যা ৩১, সিলেটে ৩০, ময়মনসিংহে ২৯ এবং ঢাকা ও রংপুরে ২৬ জন।
আট বিভাগের ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮৬ ব্যক্তির জরিপ-পূর্ববর্তী ৯০ দিনের স্বাস্থ্য তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে। নারী ও পুরুষের মধ্যে হৃদরোগের হার প্রায় সমান।
হৃদরোগীর সংখ্যা বেশি হলেও বরিশাল বিভাগের কোথাও সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে ক্যাথল্যাব নেই। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিসিইউ, ইসিজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাফির সুবিধা রয়েছে। তবে ক্যাথল্যাব না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের ঢাকায় যেতে হয়।
বিভাগের ছয়টি জেলা হাসপাতালে ইসিজির ব্যবস্থা থাকলেও সব হাসপাতালে কার্ডিওলজিস্ট নেই।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মোহাম্মদ রেফায়াতুল হায়দার জানিয়েছেন, বরিশালের হৃদরোগীদের ক্যাথল্যাবকেন্দ্রিক যে সেবা, তা পুরোপুরি ঢাকানির্ভর। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি পর্যায়েও ক্যাথল্যাব সেবা নেই। জেলা হাসপাতালগুলোতে ইসিজির মতো সাধারণ হার্টের পরীক্ষাগুলো হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সীমিত পরিসরে ক্যাথল্যাব সেবা চালু রয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে তা বন্ধ হয়ে যায়। বিভাগের জেলা হাসপাতালগুলোতে হৃদরোগের চিকিৎসা মূলত ইসিজিনির্ভর। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ওয়াজেদ আলীর ভাষ্য, কোনো কোনো হাসপাতালে কার্ডিওলজিস্টও নেই।
খুলনা বিভাগের যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও মাগুরা মেডিকেল কলেজে ক্যাথল্যাব নেই। এর মধ্যে শুধু সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়ায় সিসিইউ রয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক শেখ মোহাম্মদ আবু মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, খুলনা শেখ আবু নাসের হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজে ক্যাথল্যাব রয়েছে। তবে জেলাপর্যায়ে হৃদরোগের চিকিৎসার সুযোগ অপ্রতুল।
চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার মধ্যে ছয়টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যাথল্যাব সুবিধা আছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে শুধু সিসিইউ।
এ কারণে বিভাগের বিভিন্ন জেলার হৃদরোগীদের ভিড় জমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ১০০ শয্যার কার্ডিওলজি ওয়ার্ডে রোগী থাকেন প্রায় দ্বিগুণ।
গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালটির হৃদরোগ বিভাগে ৫৮ হাজার ২৯৮ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এনজিওগ্রাম ও এনজিওপ্লাস্টির জন্য রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। এনজিওগ্রামের সিরিয়াল পেতে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগে।
২০২৬ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৫ হাজার রোগীর এনজিওগ্রাম করা হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার। চলতি বছর এনজিওপ্লাস্টি হয়েছে ৫ হাজার ৬২৭ জনের, গত বছর হয়েছিল ৪ হাজার ৭৪৩টি।
এ বছর ১ হাজার ৮১৩ জনের সাময়িক পেসমেকার এবং ১ হাজার ২৭৩টি স্থায়ী পেসমেকার বসানো হয়েছে।
হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছেন, রোগীর চাপ বেশি থাকায় এনজিওগ্রামের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় থাকে না।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক সেখ ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া সরকারি পর্যায়ে বিভাগের অন্য কোথাও ক্যাথল্যাব নেই। বিভাগীয় শহরের বাইরেও বেসরকারি পর্যায়ে হৃদরোগের চিকিৎসার পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। জেলা হাসপাতালগুলোতে ইসিজি এবং কিছু ক্ষেত্রে ইকোকার্ডিওগ্রাফি করা হয়। সব জেলায় কনসালট্যান্টও নেই।



