এক দিনে চার ধর্ষণ মামলার রায়
৯ জনের মৃত্যুদণ্ড

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একই দিনে দেশের চার জেলায় ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার চারটি মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। যার মধ্যে তিনটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৯ আসামির। আরেক মামলায় যাবজ্জীবন হয়েছে নারীসহ দুজনের। গতকাল সোমবার জামালপুর, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি ও গোপালগঞ্জের সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল ঘোষণা করেন এসব রায়।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় এসেছে জামালপুরে। বকশীগঞ্জে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাশেদুর রহমান (পাপ্পু), বিজু মিয়া, বাদশা মিয়া, জুয়েল মিয়া, আশরাফুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন ও আছমত আলী। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন ইদ্রিস আলী নামে এক আসামি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হকের ভাষ্য, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে বকশীগঞ্জের নিলক্ষীয়া এলাকায় এক গৃহবধূ অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরে তার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। মামলায় সাতজনের সাক্ষ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন আদালত।
আরেকটি আলোচিত মামলার রায় আসে নোয়াখালীতে। চাটখিলে পাঁচ বছরের শিশু আসমা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে তার চাচাতো ভাই মো. শাহাদাতকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে জরিমানা করা হয়েছে ১ লাখ টাকা। আসামির উপস্থিতিতে বিচারক ফারজানা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।
একই দিনে ঘোষণা করা হয়েছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতেও ধর্ষণের একটি মামলার রায়। রামগড়ে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে মো. শাহিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। বিচারক শায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৃজনী ত্রিপুরা জানিয়েছেন, গত বছরের ২৫ জুলাই খাবারের লোভ দেখিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ করেন শাহিন। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এটিই প্রথম মামলার রায়। এক বছরের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে আসামিপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে উচ্চ আদালতে।
অন্যদিকে গোপালগঞ্জে ধর্ষণের আরেকটি মামলায় উজ্জ্বল বিশ্বাস ও কল্পনা বিশ্বাস নামে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে উজ্জ্বলকে ১ লাখ টাকা এবং কল্পনাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কল্পনা বিশ্বাস পিঠার লোভ দেখিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ঘরে ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন উজ্জ্বল বিশ্বাস। পরে ভুক্তভোগীর মা কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
(প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন জামালপুর, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি ও গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি)




