কিন্তু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে আবারও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভর্তিবাণিজ্য, তদবির ও নানা অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ভর্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে জিপিএভিত্তিক ভর্তি ও লটারি পদ্ধতির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সমস্যার মূল কি ভর্তি পদ্ধতিতে, নাকি সেই পদ্ধতির বাস্তবায়নে? যদি অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং জবাবদিহির ঘাটতি থেকেই যায়, তাহলে শুধু পদ্ধতি বদলালেই কি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে?
২০১৫ সাল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই পদ্ধতির বড় সুবিধা হলো শিক্ষার্থীদের একাধিক কলেজে আলাদাভাবে আবেদন করতে হয় না, সময় ও খরচ কমে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় স্বচ্ছতা কিছুটা নিশ্চিত হয়। তবে বছরের পর বছর বিভিন্ন কলেজে ভর্তি-বাণিজ্য, সুপারিশ, আসন নিয়ে অসন্তোষ এবং কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারার অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব কারণেই আবার ভর্তি পরীক্ষার দাবি জোরালো হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো, এটি একজন শিক্ষার্থীর তাৎক্ষণিক প্রস্তুতি ও মেধা যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। তবে এর বিপরীতে বাস্তবতাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অতীতে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোচিং বাণিজ্যের বিস্তার, অতিরিক্ত আর্থিক চাপ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ বেড়েছিল। ফলে পরীক্ষা ফিরিয়ে আনা মানেই যে সব সমস্যা দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার শুধু জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তি করলেও একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত দক্ষতা বা সম্ভাবনা সবসময় প্রতিফলিত হয় না। আর লটারি পদ্ধতি স্বচ্ছতা বাড়াতে পারলেও মেধার মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
তাই এখন প্রয়োজন কোনো একটি পদ্ধতির পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়; বরং এমন একটি ভর্তি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, মেধার মূল্যায়ন এবং সমান সুযোগ— সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য থাকবে। ভর্তি নীতি এমন হতে হবে, যাতে একজন শিক্ষার্থী তার যোগ্যতার ভিত্তিতে ন্যায্য সুযোগ পায় এবং কোনো ধরনের তদবির, প্রভাব বা আর্থিক অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
শিক্ষা শুধু একটি সনদ অর্জনের পথ নয়, এটি একটি দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার ভিত্তি। তাই একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিও হওয়া উচিত শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক, স্বচ্ছ এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ভর্তি পদ্ধতি বদলানো হয়তো সহজ, কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু নতুন নিয়ম নয়, সৎ ও কার্যকর বাস্তবায়নই হতে হবে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।




