সম্ভবত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জীবনে যদি একটা ‘এক্সিট’ (প্রস্থান) বা ‘লগ আউট’-এর বাটন থাকত, কত সমস্যাই না সহজ হয়ে যেত! দিন খারাপ যাচ্ছে? লগ আউট। ট্রাফিকে আটকা? লগ আউট। শুনতে সহজ মনে হলেও বাস্তবে তা কঠিন। মন চাইলেই বের হয়ে আসা যায় না যখন তখন। কিন্তু আসছে দুনিয়ায় এসব জঞ্জাল আর থাকবে না। ২০৪৫ সালেই আসবে সে মাহেন্দ্রক্ষণ। যেখানে ইচ্ছা হলেই লগ আউট। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির দুনিয়া; কম্পিউটারে তৈরি কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক জগৎ, যা বাস্তবের মতো অনুভূতি দেয়। এমনটিই উঠে এসেছে ২০১৫ সালে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মিডিয়া কোম্পানি ফোর্বসে।
বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষেরই দিনের বড় একটা সময় কাটে স্মার্টফোনে তাকিয়ে। এক ধ্যানে স্ক্রিন দেখতে দেখতে হুঁশ হারিয়ে ফেলে সে কোন দুনিয়ায় আছে— বাস্তবে নাকি কৃত্রিম দুনিয়ায়।
স্মার্টফোনের স্ক্রিনের মতোই মানুষের জীবনের সঙ্গে মিশে যাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর)। প্রতিবেদনটির দাবি ধীরগতিতে হলেও ক্রমেই প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনেই জায়গা করে নেবে উন্নতমানের এ প্রযুক্তি। প্রাথমিক পর্যায়ে ভিআরের প্রচলন এতই বাড়বে যে, এটি মানুষ বাস্তব থেকে প্রযুক্তি পার্থক্য করতে পারবে না। নকল দুনিয়ায় পরিস্থিতি অনুযায়ী মানুষের অনুভূতিতেও আসবে ভিন্নতা। আসল দুনিয়ার মতোই। এ বিষয়ে যেমন আছে সংশয়, তেমনই আছে সম্ভাবনা। সংশয়ের কারণ ভিআর ব্যবহারে পার্থক্য যাচাই করতে না পারলে বাস্তবজীবনে বাড়তে পারে বিবাদ। সম্ভাবনার কারণ এ প্রযুক্তির ফলে অন্য ব্যক্তির অনুভূতি এবং চিন্তাধারা সহজে বুঝতে পারা যাবে। যেটিকে বলা হয়েছে, ‘অন্যের জুতা পরে দেখা’। এতে সহানুভূতিও বাড়তে পারে সবার মধ্যে। আসতে পারে নতুন দৃষ্টিকোণ। তবে প্রাথমিক পর্যায়ের পর যে কেউ ভিআর জগৎ থেকে নিজ জীবনের ঘটনাকে পার্থক্য করতে শুরু করবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। নতুন এ প্রযুক্তি যে এসেই সবকিছু বদলে দেবে, এমনটাও না। চারদিকের ভিআরের জয়জয়কারের মধ্যেই আবার ফেরত আসবে টু-ডি চলচ্চিত্র। প্রযুক্তি বিলাসিতা ফেলে, চোখে বড় চশমা পরে সিনেমা দেখার বদলে ২০৪৫ সালের ওই প্রেক্ষাগৃহেই দর্শক পপকর্ন হাতে ঢুকে যাবে পুরনো আমলের টু-ডি জগতের সিনেমায়।




