তবে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বুড়িগঙ্গা মারা গেছে। কেউ বলে ধীরে ধীরে, কেউ বলে বহু আগেই। তবে মৃত্যুসনদ এখনো ইস্যু হয়নি। কারণ, মৃত্যুসনদ ইস্যু হলে গবেষণার বিষয়বস্তু কমে যেতে পারে।
এমনিতে মানুষ মারা গেলে শোকসভা হয়। নদী মারা গেলে হয় সেমিনার। তারপর আন্তর্জাতিক সম্মেলন। তারপর কর্মশালা। তারপর প্রকল্প। শেষে নতুন করে আরেকটি গবেষণা, কেন আগের গবেষণাগুলো সফল হলো না।
একসময় বুড়িগঙ্গার পানি দেখে মানুষ মাছ ধরত। এখন গবেষকরা পানি দেখে নমুনা ধরেন। মাছ নেই, কিন্তু রিপোর্ট আছে। ঢেউ নেই, কিন্তু পাওয়ারপয়েন্ট আছে। নৌকা নেই, কিন্তু পাঁচতারা হোটেলে ‘রিভার রিস্টোরেশন কনফারেন্স’ আছে।
কেউ কেউ প্রস্তাব দিয়েছেন, বুড়িগঙ্গাকে আর নদী না বলে ‘ঐতিহাসিক তরল স্মৃতিস্তম্ভ’ ঘোষণা করা হোক। এতে অন্তত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে, এই কালো তরলের নিচে একসময় একটি নদী ছিল।
ঢাকার নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের অবশ্য এতে কোনো সমস্যা নেই। নদী থাকলেও গবেষণা, নদী না থাকলেও গবেষণা। বরং নদী না থাকলে গবেষণার বিষয় আরও বেড়ে যায়। যেমন, ‘নদী কোথায় গেল?’, ‘নদীর স্মৃতি সংরক্ষণে করণীয়’, ‘অদৃশ্য নদীর সম্ভাবনা’, কিংবা ‘স্যাটেলাইটে নদীর আত্মা শনাক্তকরণ’।
শোনা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে একটি জাদুঘর হবে। সেখানে কাচের বোতলে সংরক্ষণ করা হবে বুড়িগঙ্গার শেষ এক লিটার অপেক্ষাকৃত কম দূষিত পানি। পাশে লেখা থাকবে, ‘স্পর্শ করবেন না। এটি একসময় ঢাকার নদী ছিল।’
এদিকে নতুন প্রজন্মের অনেক শিশুই নদী দেখেনি। তারা বইয়ে পড়ে, ‘নদী হলো প্রবহমান জলধারা।’ তারপর বাবাকে জিজ্ঞেস করে, ‘বাবা, এটা কি এআই দিয়ে বানানো ছবি?’
সব মিলিয়ে আশার কথা একটাই। নদী না থাকলেও নদী নিয়ে গবেষণার অভাব হবে না। কারণ, আমাদের দেশে বাস্তবতা যত কমে, গবেষণার সম্ভাবনা তত বাড়ে। নদী শুকিয়ে যেতে পারে, তবে প্রকল্পের স্রোত কখনো শুকায় না।




