মুস্তাফা মনোয়ারের স্মৃতিকথা
ছোট্টবেলার পিয়ানোটা

মুস্তাফা মনোয়ার (জন্ম: ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৫; প্রয়াণ: ২৯ জুন, ২০২৬) । আঁকা: সোহানুর রহমান
আমি একদম ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতাম। মেজো ভাই মোস্তফা আজীজ ছবি আঁকতেন। তাকে দেখেই, তার রং দিয়েই আমার ছবি আঁকা শুরু হয়েছিল। তারপর গান করতাম। আমার যখন তিন বছর চার বয়স, তখন মা মারা গেলেন। মায়ের অভাব সাংঘাতিক অনুভব করতাম। হয়তো প্রকাশ করিনি। বড় বুবুরাই মানে বোনেরা আমাকে মানুষ করেছেন।
আমাদের ছোটবেলায়ও জন্মদিনে ভীষণ আনন্দ হতো। তবে তখন যে জন্মদিন নিয়ে খুব বেশি হুলস্থূল করা হতো, তা কিন্তু নয়। খুব বড় পরিসরে জন্মদিনের আয়োজন হতো না। আমার বড় বোনেরাই বাড়িতে কিছু আয়োজনের ব্যবস্থা করতেন।
একটা জন্মদিনের কথা বিশেষভাবে মনে আছে। আমার তখন সাত বছরের মতো বয়স। জন্মদিনে আব্বা আমাকে একটা পিয়ানো কিনে দিয়েছিলেন। ছোট পিয়ানো। তখন কিন্তু দেশে পিয়ানো কিনতে পাওয়া যেত না; বিদেশ থেকে আনা হতো। আমি পিয়ানো পেয়ে খুব খুশি। সারাক্ষণ বাজাতাম। বাজাতে বাজাতে ভাবতাম, শব্দটা কোথা থেকে আসছে। পিয়ানোর শব্দের উৎস জানার বড় ইচ্ছা ছিল; কিন্তু জানতে না পেরে শেষ পর্যন্ত দোতলার ছাদে উঠে পিয়ানোটা নিচে ফেলে দিলাম। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। দেখলাম, ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে কতগুলো কাঠের জিনিস, কিছু মোটা মোটা তার। আব্বা তখন আমাকে বলেছিলাম, ‘এভাবে ভেঙে চুরমার করে কোনো কিছু শেখা যায় না। তোমাকে শিখতে হলে নিজে কিছু করতে হবে।’ সে কথা আমি মনে রেখেছি। এই যে ছোটবেলায় পাওয়া কিছু কথা, কিছু স্নেহ, কিছু ভালোবাসা— এগুলোই ছিল জন্মদিনের আসল উপহার।




