কী জানি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ফিঙ্গারপ্রিন্ট। হাতের আঙুলের ছাপ। আজকের পৃথিবীর সর্বাধুনিক বিস্ময়। আদিকালের পরিচয়পত্রের ডিজিটাল রূপ। বর্তমান দুনিয়ার মানুষের পরিচয় সনদ। হাতের আঙুলের মতোই সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম রেখা আছে নাকি মগজেরও। আসছে পৃথিবীতে সেটাই হবে মানুষ চেনার নতুন সনদ। ফিঙ্গারপ্রিন্টের আদলেই এর নাম হবে ব্রেনপ্রিন্ট। কাজও করবে বায়োম্যাট্রিকের মতোই। ২০৪৫ সালেই আসছে এ প্রযুক্তি। ২০১৬ সালে নিজেদের এ গবেষণার ফল নিয়ে নিউজউইকে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউ ইয়র্কের বিংহ্যামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী।
তাদের মতে, মস্তিষ্কের কার্যকলাপের ধরন মানুষের আঙুলের ছাপের মতোই অনন্য। ফিঙ্গারপ্রিন্ট, রেটিনা এবং অন্যান্য পরিচয় যাচাইকরণ প্রযুক্তির মতোই কাজ করবে ব্রেনপ্রিন্ট।
দেশ-বিদেশে পলাতক আসামি ধরতে সাহায্য করবে। শনাক্ত করবে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ।
প্রত্যেক মানুষের মস্তিষ্ক কাজ করে এক ভিন্ন উপায়ে। ফলে ব্যক্তিভিত্তিক পার্থক্য থাকে প্রতিটি মস্তিষ্কে। গবেষণার অংশ হিসেবে ৫০ জন ব্যক্তিকে ইইজি হেডসেট পরিয়ে তাদের মস্তিষ্কের প্রায় ৫০০টি ছবি তোলে দলটি। এ সময় নানা অনুভূতিতে মস্তিষ্কের অবস্থা বুঝতে তাদের দেখানো হয় খাবার থেকে শুরু করে পছন্দের তারকার ছবি। গবেষণায় উঠে আসে বিভিন্ন অনুভূতিতে ব্রেনের অবস্থায় থাকে বড় পার্থক্য। এটি ব্যক্তিভিত্তিক এতটাই ভিন্ন যে কম্পিউটার হাজারটা ব্রেনপ্রিন্ট দেখে যাচাই করতে পারে কোন মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তির। সেটি আবার হবে ১০০ পার্সেন্ট সঠিক! গবেষকদের মতে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা চোখের রেটিনা স্ক্যানারের থেকেও নিরাপদ হবে ব্রেনপ্রিন্ট। কেননা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট চুরি করতে পারলেও কেউ কারও ব্রেনের ছাপ চাইলেই কপি করে নিতে পারবে না। তবে সর্বসাধারণের জন্য হবে না এ প্রযুক্তি। সামরিক বাহিনীর গবেষণাগার এবং উচ্চ নিরাপত্তা এলাকায় ব্রেনপ্রিন্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা দলের প্রধান সারাহ লাসজলো। মজার ব্যাপার হলো, ডিসলেক্সিয়ার (মস্তিষ্কের এমন একটি অবস্থা যেটি মানুষের পড়তে, লিখতে সমস্যা তৈরি করে) গবেষণা থেকে ব্রেনপ্রিন্টের ব্যাপারে জ্ঞাত হন বিজ্ঞানী দল। এরপরই তারা জানালেন, বর্তমানের ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং পাসওয়ার্ডের জায়গা নেবে আগামী দিনের ব্রেনপ্রিন্ট।




