‘দাম বাড়ে আয় তো বাড়ে না’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ১ হাজার টাকা নিয়ে এসেছিলেন ৪০ বছর বয়সী রাশেদা বেগম। পরিকল্পনা ছিল এক কেজি ব্রয়লার মুরগি, কিছু মাছ, চাল আর কয়েক ধরনের সবজি কিনবেন। কিন্তু বাজার ঘুরে দেখলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। কাঁচা মরিচ, বেগুন, মাছের দামও চড়া। শেষ পর্যন্ত তালিকা থেকে কয়েকটি পণ্য বাদ দিয়েই বাজার শেষ করতে হলো তাকে। আক্ষেপ করে রাশেদা বেগম বললেন, ‘গরিব মানুষ তো ব্রয়লার মুরগিই খায়। এখন তার দামও ২০০ টাকার কাছাকাছি। বাজারে সবকিছুর দাম বাড়ে; কিন্তু আমাদের আয় তো আর বাড়ে না।’
নতুন অর্থবছরের বাজেটে ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে নতুন করে করারোপ করা হয়নি। বরং যেসব পণ্যে ৫ শতাংশ কর ছিল, কিছু ক্ষেত্রে তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা ছিল, এতে বাজারে স্বস্তি ফিরবে। তবে বাস্তবে তার প্রভাব এখনো দেখা যাচ্ছে না। বরং রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোয় আবারও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি মাছ, চাল, আলু, রসুনসহ বেশ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। গতকাল শুক্রবার কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। সোনালি মুরগির প্রতি কেজি ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩৫০।
মুরগি বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন বলছিলেন, গরম ও লোডশেডিংয়ে অনেক খামারি নতুন করে বাচ্চা তোলেননি। অনেকে লোকসানের আশঙ্কায় আগেই মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে, আর এ কারণেই বেড়েছে দাম। আকারভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩০০ থেকে ৪০০, চিংড়ি ৫৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান বললেন, ২০০ টাকার নিচে এখন কোনো মাছ পাওয়া যায় না। নদী কিংবা সামুদ্রিক মাছের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শফিকুল ইসলাম বললেন, ‘গত সপ্তাহে যে কৈ মাছ প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় কিনেছি, আজ তা ২৫০। এক সপ্তাহে এত দাম বাড়বে ভাবিনি।’ গৃহিণী নাছরিন বেগম বললেন, সবজির দাম কিছুটা সহনীয় থাকলেও মাছের দাম এত বেশি যে সংসারের বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। গতকাল প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০ এবং বেগুন ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এগুলোর দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা। সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলে জানালেন বিক্রেতারা। এক মাস আগে প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি রসুন ৯০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ছিল ৬০ থেকে ১৪০ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে নাজিরশাইল ও মিনিকেটের মতো সরু চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৭২ থেকে ৮৫ টাকায় উঠেছে। মাঝারি মানের চাল কেজিতে ২ থেকে ৩ এবং মোটা চালের দাম ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে গরুর মাংস ও ডিমে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি ডজন সাদা ডিম ১০০ এবং লাল ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কম।




