ছায়ানটে বর্ষার অনুষ্ঠান, সুফিয়া কামালকে নিবেদন

ছবি: আগামীর সময়
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুফিয়া কামালকে নিবেদন করে বর্ষার অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। শুক্রবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে কবিতা, আবৃত্তি, একক ও সম্মেলক গান, যন্ত্রসংগীত এবং নৃত্যগীতের সমন্বয়ে সাজানো হয় এই আয়োজন।
অনুষ্ঠানে কাজী নজরুল ইসলামের ‘চপল শ্যামল এলো গগনে’ শীর্ষক সম্মেলক নৃত্যগীত পরিবেশন করে ছায়ানটের শিল্পীরা। এছাড়া একক গান, আবৃত্তি, যন্ত্রসংগীত ও নৃত্যগীতের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বর্ষার নানা রূপ তুলে ধরেন তারা।
শিল্পীরা কণ্ঠসঙ্গীত, যন্ত্রসঙ্গীত ও নৃত্যের সম্মিলিত পরিবেশনায় বর্ষার সেই রূপ-বৈচিত্র্যকে সকলেত সামনে মূর্ত করে তুলেন। সুর, তাল, লয়, বাণী ও নৃত্যভঙ্গিমায় ধরা দেয় মেঘের আহ্বান, বৃষ্টির আবেশ এবং প্রকৃতির অন্তহীন নবসৃজনের আনন্দ।
ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা বলেন, ‘পাকিস্তানের বৈরি পরিস্থিতিতে অসমসাহসিক কবি ও সমাজসেবী বেগম সুফিয়া কামাল ছিলেন সকল বাঙালির আশ্রয়, ভরসা, নির্ভয়ে এগিয়ে চলার প্রেরণা। আপন সংস্কৃতির পথে বাঙালির স্বাধিকার অর্জনের লড়াইয়ে তাকেই শিরোধার্য করে ছায়ানটের আবির্ভাব। আমাদের কর্মই বলবে, তার আদর্শের কতখানি আমরা ধরে রাখতে পেরেছি। সেই পথনির্দেশককে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করারই ক্ষুদ্র প্রয়াস, ছায়ানটের বর্ষার গানের অনুষ্ঠান।’
বর্ষায় আয়োজন প্রসঙ্গে লাইসা আহমদ লিসা বলেন, ‘আষাঢ়ের প্রথম মেঘ যখন দিগন্ত জুড়ে তার নীল-ধূসর চাদর মেলে, তখন প্রকৃতি যেন নতুন করে নিজের অন্তর খুলে দেয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা শুধু মাটিকেই সিক্ত করে না, মানুষের মনেও জাগিয়ে তোলে এক অনির্বচনীয় সুর। বর্ষা তাই কেবল একটি ঋতুর নাম নয়; সে প্রত্যাবর্তনের, নবজাগরণের, প্রেমের, বিরহের, ধ্যানের এবং জীবনের অন্তহীন প্রবাহের এক চিরন্তন উৎসব। শুদ্ধ সঙ্গীত বা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে বর্ষার এই অনুভব শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রূপ পেয়েছে নানা রাগে। মল্লারের নিবিড় প্রশান্তি, মেঘ-মল্লারের সজল ব্যাকুলতা, মিয়াঁ কি মল্লারের গম্ভীর মহিমা, গৌড়-মল্লারের স্নিগ্ধ ঐশ্বর্য, আবার দেশ রাগের সহজ-সরল আপন টান। প্রতিটি রাগ যেন বৃষ্টিরই ভিন্ন ভিন্ন ভাষা। কোথাও মেঘের গর্জন, কোথাও টুপটাপ বৃষ্টিধারা, কোথাও সজল বাতাসের দীর্ঘশ্বাস, কোথাও নবজীবনের উল্লাস।’
অনুষ্ঠানে যন্ত্রসংগীতে বাঁশি পরিবেশন করেন মুর্তজা কবির মুরাদ। একক গানে অংশ নেন সানজিদা বীথিকা, সেঁজুতি বড়ুয়া, মনীষ সরকার, সেমন্তী মঞ্জরী, তাহমিদ ওয়াসিফ এবং ফারজানা আক্তার পপি। সম্মেলক গানে ছায়ানট পরিবেশন করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ঝিম ঝিম ঘন ঘন রে’ এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘দুলিবি কে আয়’। এ ছাড়া কৃষ্টি হেফাজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছিন্নপত্র’-এর অংশবিশেষ পাঠ করেন এবং আবদুস সবুর খান চৌধুরী সুফিয়া কামালের ‘সাঁঝের মায়া’ আবৃত্তি করেন। যন্ত্রসংগীতে সেতার পরিবেশন করেন এবাদুল হক সৈকত। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এসো শ্যামল সুন্দর’ শীর্ষক সম্মেলক নৃত্যগীত এবং জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে।
অনুষ্ঠানে যন্ত্রসংগতে সহযোগিতা করেন সেতারে ফিরোজ খান, মন্দিরায় প্রদীপ কুমার রায়, বাঁশিতে মো. মনিরুজ্জামান, কীবোর্ডে রবিন্স চৌধুরী, তবলায় স্বরূপ হোসেন এবং কুমার প্রতিবিম্ব।



