নকআউটে রোনালদোর প্রথম গোল

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো
দিয়েগো জোতার কখনো বিশ্বকাপে খেলা হয়নি। ২০২২ বিশ্বকাপে খেলতে পারলেন না চোটের কারণে আর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর এক বছর আগে তো পৃথিবী থেকেই চলে গেলেন গাড়ি দুর্ঘটনায়।
স্বর্গ থেকে জোতা হয়তো দেখছেন কীভাবে সতীর্থরা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন তার নাম লেখা জার্সিটা। ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে পর্তুগাল পৌঁছে গেছে শেষ ১৬-তে, টরন্টো স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে পর্তুগাল দলের সব সদস্য মিলে ছবি তুললেন জোতার জার্সি নিয়ে মধ্যমণি হয়ে দাঁড়ানো অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে।
২০১৮-এর রানার্সআপ আর ২০২২-এর তৃতীয় স্থান অর্জন করা ক্রোয়েশিয়াকে শেষ ৩২ থেকেই বিদায় করে দিল পর্তুগাল। দিনটাও ছিল জোতার মৃত্যুবার্ষিকীর আগের দিন। এমন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে শেষ ১৬-তে পৌঁছানোর সঙ্গে আছে রোনালদোর ব্যক্তিগত তৃপ্তি। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে পেয়েছেন নকআউটের প্রথম গোল এবং এই পর্বে সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলারও তিনি। রোনালদোর পেনাল্টি গোলে সমতায় ফেরা পর্তুগালকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন গঞ্জালো রামোস। এই লিড ধরে রাখতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠার দশা হয়েছিল।
ম্যাচ জয়ের পরিতৃপ্তি নিয়েই রোনালদো জানিয়েছেন শেষ বাঁশির আগে কী ঝড়টা গেছে তাদের মনের ভেতর, ‘আজকে আমরা টের পেয়েছি যন্ত্রণা কাকে বলে! বিশ্বকাপের মতো বড় আসর জিততে হলে যন্ত্রণা সহ্য করাটাও শিখতে হবে।’ ম্যাচসেরার পুরস্কার নিতে এসে সিআর সেভেন বলেছেন, ‘আজকের ম্যাচটি দর্শকদের জন্য দারুণ উপভোগ্য ছিল। প্রথমার্ধে খেলাটা আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে এসে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। তারা গোল করার পর আমরা কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগছিলাম। তবে পেনাল্টি থেকে আমাদের গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য এবং মানসিকতার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ঠিক ওই মুহূর্তের পর থেকে খেলাটা আমাদের জন্য সহজ হয়ে যায়। এরপরও কিছু চড়াই-উতরাই পার হতে হয়েছে আমাদের, তবে এই টুর্নামেন্টের ধরনটাই এমন। এখন আমাদের লক্ষ্য সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।’
জোতার স্মরণে পর্তুগাল দলের সবাই বিশেষ রিস্টব্যান্ড পরে খেলছেন বিশ্বকাপে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়টা এলো তার না ফেরার দেশে পাড়ি জমানোর এক বছর পূর্তির আগের দিন। জোতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জোয়াও নেভেস এখন পরেন ২১ নম্বর জার্সি, জাতীয় সংগীতের সময় যখন পর্দায় জোতার মুখটা ভেসে উঠেছিল, তখন নেভেস চুমু খান সেই বিশেষ রিস্টব্যান্ডে। নেভেস ম্যাচের পর বলেছেন, ‘সে আর তার স্ত্রী এখনো আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আছে, যখনই বিশেষ কিছু ঘটে তখন তাকে আমি বার্তা পাঠাই। তার সব বার্তা আমি সংরক্ষণ করে রেখেছি। আমার মনে হয় সে আমাদের সঙ্গেই আছে।’
রোনালদো ম্যাচের পর বলেছেন, ‘ম্যাচটি ছিল তার প্রতি এক পরম শ্রদ্ধাঞ্জলি। আজকের দিনটি সত্যিই বিশেষ ছিল— প্রথমত আমরা জিতেছি, দ্বিতীয়ত পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেছি। আমরা ঠিক এটিই চেয়েছিলাম এবং এর চেয়ে দারুণভাবে তাকে শ্রদ্ধা জানানোর আর কোনো রাস্তা ছিল না।’ কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বলেছেন, জোতা দলের অদৃশ্য সদস্য হয়ে সবসময় আছেন, ‘জোতা ছিল শক্তি আর উদ্যমের প্রতীক, সে সবসময় বিশ্বাস রাখত যে আমরাই জিতব। তার প্রতি আমাদের একটা দায়িত্ব আছে, আমরা আমাদের কাজটা চালিয়ে যাব।’




