সফল এনসিটি কেন বিদেশিদের হাতে
- প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, আহ্বায়ক, বন্দর রক্ষা কমিটি

প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার। গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৩ বছর আগে চালু হয়। এই টার্মিনাল দিয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ শতাংশ কনটেইনার ওঠানামা হয়। সবচেয়ে লাভজনক টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে দুপক্ষ এখন মুখোমুখি। একপক্ষ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আরেকপক্ষ বন্দর রক্ষা কমিটি। এ নিয়ে আগামীর সময়ের বিশেষ প্রতিনিধি আসিফ সিদ্দিকীর প্রতিবেদন—
বন্দর চেয়ারম্যানের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার। তার যুক্তি— বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে বন্দরগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব যখন তীব্র হচ্ছে, তখন দেশের অর্থনীতির ফুসফুসখ্যাত এই টার্মিনাল বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়া শুধু কোনো বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। দেশের সর্বস্তরের মানুষের মতামত উপেক্ষা করে এ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে এর দায় সম্পূর্ণ সরকারকে নিতে হবে। বন্দর চেয়ারম্যান একবারও বলেননি কেন একটি লাভজনক, দক্ষ এবং দেশীয় জনবল দ্বারা সফলভাবে পরিচালিত এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দিতে হবে। এটি পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ— এমন কোনো অর্থনৈতিক, কারিগরি বা পরিচালনাগত বিশ্লেষণ আজ পর্যন্ত জাতি ও অংশীজনদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
এনসিটির ইজারা নিয়ে কয়েক বছর ধরে যে প্রক্রিয়া চলছে, এর কোথাও জনগণের অংশগ্রহণ নেই। জাতীয় সংসদে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি বন্দর শ্রমিক-কর্মচারী, ব্যবসায়ী সংগঠন কিংবা দেশীয় বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়নি। যদি সত্যিই কোনো কিছু গোপন করার উদ্দেশ্য না থাকে, তবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক, সম্ভাব্য কনসেশন চুক্তির খসড়া, ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজারের সুপারিশ এবং আর্থিক ও ঝুঁকি মূল্যায়নের যাবতীয় শর্তাবলি অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।
কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে করা সমঝোতা বা প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের জনগণের সাংবিধানিক অধিকার, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর প্রাধান্য পেতে পারে না। যদি বিগত দিনে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েও থাকে, তবে তা পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনে বাতিল করাই সার্বভৌম রাষ্ট্রের সরকারের প্রধান দায়িত্ব।




