‘থানা পুড়িয়েছি’ বলা সেই মাহাদী পুলিশ হেফাজতে

বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহাদী হাসানকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ— ভিডিও থেকে নেওয়া
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহাদী হাসানকে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার বিকালে জেলা সদরের কোর্ট মসজিদের সামনের ময়দান থেকে তাকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের ভ্যানে তুলে সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়। এ সময় আরও কয়েকজন কর্মী-সমর্থক তার সঙ্গে ছিলেন।
গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ‘সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। কর্মসূচি স্থলে সদর মডেল থানার পুলিশ গিয়ে প্রথমে মাহাদীকে তাদের সঙ্গে যেতে অনুরোধ করে। তিনি যেতে অনীহা প্রকাশ করলে পুলিশ তাকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মাহাদীকে থানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের আকস্মিক প্রশ্নের জবাবে সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘নিরাপত্তার জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’
এর আগে পুলিশ সদস্যকে হুমকি দেওয়া এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসেন ২১ বছর বয়সী মাহাদী। ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংগঠনটির হয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে পরিচিতি পান তিনি। ওই বছরের জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন মাহাদী। পরে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থাকার কারণে তিনি আরও পরিচিতি পান।
গত ১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে আটক করে পুলিশ। এরপর মাহাদী তার অনুসারীদের নিয়ে থানায় গিয়ে নয়নকে আটকের কৈফিয়ত চান। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই ভিডিওতে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরদিন বানিয়াচংয়ের ‘নাইন মার্ডার’ প্রসঙ্গ টেনে মাহাদীকে বলতে শোনা যায়, ‘থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’ এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ওসিকেও হুমকি দেন এবং নয়নকে ছাড়িয়ে আনেন বলে অভিযোগ।
পরে এ ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ মাহাদীকে গ্রেপ্তার করে। তবে পরবর্তী সময়ে আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পান তিনি।







