শুল্কমুক্ত মদ মজুদ : সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ৪ গুদাম সিলগালা

ছবি: আগামীর সময়
অননুমোদিত গুদামে শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের দুটি বৈধসহ চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।
রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানের ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এ যৌথ অভিযানে এসব গুদাম সিলগালা করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১ (এসআরবি-১) যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।
অভিযান পরিচালনাকারী দল সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত ও ঘোষিত ওয়্যারহাউজের সংখ্যা ছিল দুটি। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, তারা অনুমোদিত সীমার বাইরে গিয়ে মোট চারটি ওয়্যারহাউজে পণ্য মজুদ করে রেখেছিল। মূলত অনুমোদিত পরিসরের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত আরও দুটি অননুমোদিত ওয়্যারহাউজে আইনবহির্ভূতভাবে পণ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
বিশেষ করে বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত শুল্কমুক্ত (ডিউটি-ফ্রি/ বন্ডেড) পণ্য যেন অননুমোদিত স্থান থেকে স্থানান্তর বা অপসারণ করা না যায় এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়— সে লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট চারটি ওয়্যারহাউজই সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান। এ সংক্রান্ত পরবর্তী অগ্রগতি তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে তুলে ধরা হবে।
আভিযানিক দল সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় অনেকগুলো বার পরিচালনায় সম্পৃক্ত রয়েছেন শেখ নুর ইসলাম।
এর আগে বহুল আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছিল আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। গত বুধবার দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ হামলার ঘটনায় রাতে বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান ফেসবুক লাইভে বলেছেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছ?’
পরদিন রবিবার বিএনপিকে জড়িয়ে সালমান মুক্তাদিরের দেওয়া এ বক্তব্য নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছিলেন, ‘একদিকে তিনি (সালমান মুক্তাদির) লাইভে বলেছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা চাননি, চাইলে তিনি দিতেন। আবার বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল বলেছেন। এ ধরনের বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। তার বক্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।’



