চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চালাবে বিদেশি অপারেটর

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আর্ন্তজাতিক অপারেটর দিয়ে পরিচালনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার।
অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আজ বৃহস্পতিবার একটি খসড়া কনসেশন চুক্তি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
এনসিটির পাশাপাশি ওভারফ্লো ইয়ার্ডও ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটর পরিচালনা করবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার ৪৫ শতাংশ একাই ওঠানামা হয় এই এনসিটিতে। সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি সমন্বয়ে পরিচালিত এই টার্মিনালে সবচেয়ে দ্রুত পণ্য ওঠানামা হয়। সবচেয়ে বড় জাহাজও ভিড়ে এই টার্মিনালে।
সরকারে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ ভিত্তিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় এই প্রস্তাব দেয়। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এনসিটি দেশি-বিদেশি অপারেটর দিয়ে পরিচালনার প্রতিবাদে আন্দোলন বেশ জমে ওঠেছে।
এই আন্দোলনে এক সপ্তাহ আগেই প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে সরকারদলীয় শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি দিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। এর সাথে আন্দোলনে আছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের সম্মিলিত সংগঠন স্কপ।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার জানিয়েছেন, কী আর থাকব ভাই! আমরা এখন শ্রমিক সংগঠন নিয়ে বৈঠকে বসেছি। কী সিদ্ধান্ত একটু পরই জানা যাবে। এনসিটি ১৫ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু।
তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের মানুষকে পাশ কাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। জাতীয় সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে বন্দর রক্ষা কমিটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের অবস্থান অব্যাহত রাখবে।



