পাবিপ্রবির নারী হলগুলোতে নেই ক্যান্টিন

পাবিপ্রবির গণতন্ত্র হল
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আছে মাতৃভাষা ও গণতন্ত্র নামে দুটি আবাসিক হল। হল দুটিতে থাকেন প্রায় ১ হাজার ২৫০ শিক্ষার্থী। কিন্তু কোনো হলেই নেই ক্যান্টিন।
খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে তাদের হলের বাইরে যেতে হয়। রাতে জরুরি কিছু দরকার হলে ভোগান্তি আরও বাড়ে। এতে আবাসিক হলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধার জন্যই মাতৃভাষা হল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই চালু। গণতন্ত্র হল চালুরও এক বছর পেরিয়েছে। দুটি হলেই আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ডাইনিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এখনো কোনো ক্যান্টিন চালু হয়নি।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ডাইনিং চালু থাকলেও প্রতিদিনের প্রয়োজন অনুযায়ী সবসময় সেখান থেকে খাবার পাওয়া যায় না। খাবারের মান নিয়েও তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ফলে অনেক সময় বাইরে থেকে খাবার কিনতে হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর হলের গেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাতে বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না।
আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতে হঠাৎ খাবার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো সামগ্রী প্রয়োজন হলে তারা চাইলেও হল থেকে বের হতে পারেন না। ফলে ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাতেও অনেক সময় পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। হলের ভেতরে ক্যান্টিন থাকলে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসত।
গণতন্ত্র হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হুমায়রা হিসাব জানিয়েছেন, ক্যান্টিন না থাকায় ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরের দোকানে যেতে হয়। এতে সময়ের অপচয় হয়। ক্লাস, পড়াশোনা ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যেও প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য বাইরে যেতে হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বা জরুরি প্রয়োজনে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে গিয়ে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
হুমায়রা হিসাব বলেছেন, আবাসিক হলে স্বাস্থ্যসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ক্যান্টিন থাকা শিক্ষার্থীদের মৌলিক প্রয়োজনের অংশ। তাই নারী হল দুটিতে দ্রুত ক্যান্টিন চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
গণতন্ত্র হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী কণিকা দেবনাথ জানিয়েছেন, ক্যান্টিন না থাকায় তাদের প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় ডাইনিংয়ের খাবার মানসম্মত না হওয়া কিংবা পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় খাওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ করে রাতে হঠাৎ ক্ষুধা লাগলে বা হালকা খাবার ও স্ন্যাকস খেতে চাইলে হলের ভেতরে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রয়োজনীয় খাবারের জন্য বাইরে যেতে হয়, যা রাতে আরও অসুবিধাজনক।
মাতৃভাষা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন টিনা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো এই হলে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ক্যান্টিন নেই। এখানে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনেক সিনিয়র শিক্ষার্থীও থাকেন। ডাইনিংয়ের খাবার সবসময় ভালো না লাগায় অনেক সময় চা, নাস্তা বা হালকা খাবারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিশেষ করে রাতে প্রতিবার বাইরে যাওয়া সম্ভব হয় না। পড়াশোনার ব্যস্ততা বা অসুস্থতার কারণেও বাইরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন বিবেচনায় মাতৃভাষা হলে একটি ক্যান্টিন থাকা জরুরি।
মাতৃভাষা হলের প্রভোস্ট ড. রেবেকা সুলতানা রেখা জানিয়েছেন, নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা হলের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা জানিয়েছেন। বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হলের স্টেশনারি শপের প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে।







