লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪৩০০ ছাড়াল

দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ আল শামারি এলাকায় ইসরায়েলির হামলার চিত্র। ছবি: রয়টার্স
লেবাননে গত ২ মার্চ থেকে প্রাণঘাতি হামলাচ্ছে ইসরায়েল। সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৪৬ জন। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের জরুরি পরিচালনা কেন্দ্র এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে আরও ১২ হাজার ৩০১ জন আহত হয়েছে। সবশেষ গত শনিবার দক্ষিণ লেবাননে দুটি বিমান হামলায় ১১ জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাবাতিয়াহ জেলার দেইর জাহরানি শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১১ নারী ও এক শিশু রয়েছে। একই জেলার আনসার শহরে পৃথক আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় ৩ শিশু ও ২ নারীসহ ৭ জন নিহত এবং আরও ২ জন আহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জুনে যুদ্ধবিরতি নবায়নের পর দক্ষিণ লেবাননে এটি সবচেয়ে মারাত্মক হামলা। ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির নেতারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ৪ ও ২৬ জুনের দুটি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল লেবানন ও ইসরায়েল। ৪ জুনের যুদ্ধবিরতিতে শর্ত ছিল হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে এবং তাদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নিতে হবে। অন্যদিকে, ২৬ জুনের চুক্তিতে সরাসরি ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের কথা বলা হয়নি। এর সঙ্গে হিজবুল্লাহর অস্ত্র ত্যাগ করার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।
গত এপ্রিলে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন এই চুক্তিগুলো হয়। দুটি চুক্তিরই বিরোধিতা করেছিল হিজবুল্লাহ। কিন্তু চুক্তির পরেও লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কিংবা প্রাণঘাতী হামলা ঠেকানো যায়নি।
আগামী মাসে ইসরায়েল-লেবাননের আলোচনার পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ফের হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল।
ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকাভুক্ত বোফোর্ট দুর্গের কাছে নাবাতিয়াহ জেলার আলি আল-তাহের পাহাড়ি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। হিজবুল্লাহর টিভি চ্যানেল আল-মানার জানিয়েছে, বিমান হামলার কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে। অন্যদিকে নাবাতিয়াহ নিউজ চ্যানেল জানিয়েছে, কেফার রেমান শহরের কাছে এই হামলাগুলো চালানো হয়।
জুনের যুদ্ধবিরতির পর সাময়িক বিরতি থাকলেও সম্প্রতি এ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা সেখানে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বিনতে জবেইল ও তাইবেহ শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এ ছাড়াও, আল-মানসুরি শহরের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি ড্রোন এবং সরবিন, বারাসিত, আল-মানসুরি ও ওয়াদি জিবকিন শহরে কামানের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
হামলা চালানোর বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইসরায়েলেরৈ সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। তাদের দাবি, আলি আল-তাহের পাহাড়ে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর একটি পদক্ষেপের জবাবে এই হামলা।
এক্স-এ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর সদর দপ্তরে বিমান হামলা চালিয়ে ইসরায়েল জবাব দিয়েছে। আইডিএফ জানতে পেরেছে হিজবুল্লাহ সুকৌশলে ওই সামরিক কম্পাউন্ডের ভেতরে বেসামরিকদের রেখেছিল।
লেবাননে এবং গাজায় বারবার বেসামরিকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসরায়েল। গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ৯০ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বাস্তুচ্যুত প্রায় ৬ লাখ মানুষ।
গত ২ মার্চ লেবাননে নতুন করে সংঘাত শুরু করে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলে রকেট ছুড়েছিল হিজবুল্লাহ। সেই থেকে শুরু হয় এই সংঘাত।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও মিডল ইস্ট মনিটর






