আর্জেন্টিনার ভুতুড়ে গোরস্তান

লা রেকোলেতা গোরস্তান
লা রেকোলেতা নামের গোরস্তানটির দেখা পেতে যেতে হবে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেস শহরে। ১৮২২ সালে প্রতিষ্ঠিত কবরখানাটি যেন মৃত্যু নয়, বিলাসের প্রদর্শনী। সারি সারি মার্বেলের প্রাসাদ, ব্রোঞ্জের দরজা, কাচঘেরা কক্ষ, দেবদূতের মূর্তি, কালো গ্রানাইটের স্তম্ভ। একে ঘিরে ডালপালা মেলেছে নানা রহস্যময়, অতিপ্রাকৃত গল্প।
সবচেয়ে ভয়ংকর গল্পটি এক তরুণীকে ঘিরে। তার নাম রুফিনা কাম্বাসেরেস। ধনী পরিবারের সুন্দরী মেয়ে। একদিন আচমকা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করলেন। শোকে পাথর পরিবার তাকে সমাধিতে শুইয়ে দিল। দরজা সিল করা হলো। কয়েক দিন পর গোরস্তানের কর্মচারীরা রাতে অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেল। কেউ যেন ভেতর থেকে আঁচড়াচ্ছে। প্রথমে তারা গুরুত্ব দেয়নি। পরে শব্দ বাড়তে থাকে। সমাধি খুলে দেখা গেল, কফিনের ঢাকনার ভেতরে নখের গভীর দাগ। তরুণীর হাত ক্ষতবিক্ষত। মুখে আতঙ্কের ছাপ। তিনি মারা যাননি। জেগে উঠেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
আজও লা রেকোলেতার সরু গলিগুলোতে হাঁটলে হঠাৎ মনে হয়, কেউ পেছন পেছন আসছে। থামলেই শব্দ থামে। হাঁটলেই আবার শুরু। কবরখানার কর্মচারীরা রাতে রুফিনার কবরের পাশ দিয়ে গেলে নাকি হঠাৎ হঠাৎ সেই আঁচড়ের শব্দ শুনতে পান।
এই কবরস্থনের আরেক কুখ্যাত আত্মা দাভিদ আলেনো। তিন দশক ধরে মৃতদের জন্য গর্ত খুঁড়েছেন। সামান্য আয় থেকে টাকা জমিয়ে নিজের জন্য এক সমাধি কিনলেন। নিজের মূর্তি বানালেন। সব প্রস্তুত হলে একদিন বাড়ি ফিরে নিজেই জীবন শেষ করলেন। তার পর থেকে ভোরের আগে নাকি শোনা যায় চাবির ঝনঝন শব্দ। যেন তিনি এখনো টহল দিচ্ছেন। রাতের প্রহরীরা বলে, কখনো কখনো ছায়ামূর্তির মতো একজন মানুষকে দেখা যায় ক্যাপ পরা, মাথা নিচু, হাতে চাবি। কাছে গেলেই নেই।
যদি কোনো সরু গলিতে দাঁড়িয়ে হঠাৎ শুনতে পান—
খট... খট... খট... তবে ধরে নেবেন, কেউ দরজার ভেতর থেকে বের হতে চাইছে।
সূত্র: বুয়েনস এইরেস সিটি ট্যুরিজম, আর্জেন্টিনা হিস্টোরিক্যাল আর্কাইভ




