ইন্টারন্যাশনাল ট্রেন্ড
চকলেট ব্রাউন চমক

ছবি: ইন্টারনেট
আজ বিশ্ব চকলেট দিবস। শুধু লোভনীয় খাবার হিসেবেই নয়, চকলেটের স্বাদ ছড়িয়ে পড়েছে ফ্যাশনেও। লিখেছেন সায়মন
একসময় দাওয়াত, অফিস কিংবা বিশেষ কোনো আয়োজনে একটু পরিশীলিত বা অভিজাত দেখাতে চাইলে কালো রঙের বিকল্প ছিল না। আত্মবিশ্বাস, গাম্ভীর্য আর আভিজাত্যের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এই রঙ। কিন্তু ফ্যাশনের সৌন্দর্যই হলো এটি নীরবে বদলে যায়। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে কালোর জায়গা দখল করে নিয়েছে আরেকটি গাঢ়, উষ্ণ ও মার্জিত রঙ— চকলেট ব্রাউন।
বিশ্বের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ, রানওয়ে আর স্ট্রিট স্টাইলে গাঢ় বাদামির নানা শেড ফিরে এসেছে। এসপ্রেসো, মোকা, কোকো, চেস্টনাট কিংবা ডার্ক চকলেট— একই রঙের নানা গভীরতা যেন নতুন করে আধুনিক আভিজাত্যের সংজ্ঞা দিচ্ছে। এ রঙ নজরে পড়ে, কিন্তু চোখ ঝলসে দেয় না; বরং নীরবে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়। ফলে ‘চকলেট ব্রাউন’ পরিণত হয়েছে ঈর্ষণীয় এক ফ্যাশন ট্রেন্ডে।
ক্লান্তি হরণে
কাজ, সংসার, যানজট, সময়ের চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম— সব মিলিয়ে মানুষ ক্রমে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। এ ক্লান্তির সময়ে ফ্যাশনেও খুঁজছে স্বস্তি, স্থিরতা আর প্রকৃতির ছোঁয়া। চকলেট ব্রাউন ট্রেন্ডটি ঠিক সেই অনুভূতিরই প্রতীক। এটি মাটি ও গাছের বাকলের রঙ, কফির উষ্ণতা, ভেজা মাটির ঘ্রাণ আর প্রকৃতির গভীরতার সঙ্গে যুক্ত। মনোবিজ্ঞানীরাও বলেছেন, মাটির কাছাকাছি থাকা উষ্ণ রঙগুলো মানুষের মনে নিরাপত্তা, স্থিরতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের অনুভূতি তৈরি করে। সম্ভবত সে কারণেই চকলেট ব্রাউন স্রেফ রঙের গণ্ডি পেরিয়ে হয়ে উঠেছে একটি মানসিক অবস্থার প্রতিফলন।
সুতি, লিনেন, শিফন বা জর্জেটের মতো আরামদায়ক কাপড়ে গাঢ় বাদামি দারুণ দেখায়
সময় পরিক্রমা
একসময় ভাবা হতো চকলেট ব্রাউন মানেই শীতকালের রঙ। শীতের ভারী জ্যাকেট বা সোয়েটারেই যেন একে মানায়। কিন্তু চলতি ট্রেন্ড সেই নিয়ম ভেঙে দিয়েছে। আষাঢ়ের এ ভ্যাপসা গরম আর হঠাৎ বৃষ্টির দিনেও রঙটি দারুণ মানিয়ে যায়। সুতি, লিনেন, শিফন বা জর্জেটের মতো আরামদায়ক কাপড়ে গাঢ় বাদামি দারুণ দেখায়। কালোর মতো এটি রোদে খুব বেশি তাপও টেনে নেয় না, অথচ গম্ভীর আভিজাত্য ধরে রাখে।
মানায় ভালো
যাদের গায়ের রঙ একটু উজ্জ্বল বা শ্যামলা, তাদের সঙ্গে চকলেট ব্রাউন দারুণ খোলে। আবার যাদের গায়ের রঙে শীতল একটা ভাব আছে, তাদের জন্য এসপ্রেসো ব্রাউন বেশি মানানসই। স্টাইলিংয়ে এই রঙের ভারসাম্য তৈরির একটি দারুণ কৌশল আছে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো পোশাকই বাদামি পরা যায়, শুধু কাপড়ের বুননে একটু ভিন্নতা রেখে। যেমন একটি সুতির কুর্তির সঙ্গে হয়তো জর্জেট বা সিল্কের ওড়না পরা হলো। কাপড়ের টেক্সচার আলাদা হলে একরঙা পোশাকেও একঘেয়েমি আসে না। গয়না বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে মজার নিয়ম। উষ্ণ চকলেট ব্রাউনের সঙ্গে সোনালি রঙের গয়না আর কালচে এসপ্রেসো ব্রাউনের সঙ্গে রুপালি বা অক্সিডাইজড জুয়েলারি মানায় চমৎকার।
যে রঙে খোলতাই
চকলেট ব্রাউনের সঙ্গে অন্য কী রঙ পরা যায়, তা নিয়ে ভাবনার বেশি কিছু নেই। আইভরি রঙের সঙ্গে ব্রাউনের যুগলবন্দি সবসময়ই আভিজাত্য ছড়ায়। তবে একটু অন্যরকম কিছু চাইলে বাদামির সঙ্গে নেভি ব্লু বা গাঢ় নীল রঙের মিশ্রণ করে দেখতে পারেন, এটি চোখের জন্য প্রশান্তিদায়ক। এর বাইরে অলিভ গ্রিনের সঙ্গেও চকলেট ব্রাউন চমৎকার একটি মাটির কাছাকাছি লুক এনে দেয়। আর যারা আপাদমস্তক বাদামি পোশাক পরতে প্রস্তুত নন, তারা চাইলে শুধু একটি চকলেট ব্রাউন রঙের চামড়ার ব্যাগ, জুতো বা বেল্ট দিয়েও স্টাইলিং শুরু করতে পারেন।
রূপে-গুণে
ব্রাউন আইশ্যাডো, কোকো টোনের ব্লাশ, চকলেট লিপস্টিক কিংবা এসপ্রেসো নেইলপলিশ— সব মিলিয়ে এখন ট্রেন্ড হলো স্বাভাবিক, পরিমিত ও পরিণত সৌন্দর্য। চুলের সাজেও দেখা যাচ্ছে চকলেট ব্রাউনের বাহাদুরি। এই রঙের চুল দারুণ ট্রেন্ডি; কারণ আলো পড়লে স্নিগ্ধতা আর গভীরতা তৈরি হয়। নব্বইয়ের দশকের বিখ্যাত ব্রাউন মেকআপও ফিরে এসেছে। খুব চড়া মেকআপ না করে, শুধু ঠোঁটে একটু চকলেট ব্রাউন লিপস্টিক বা নখে এসপ্রেসো রঙের নেইলপলিশের প্রলেপ দিলে দারুণ দেখায়।




