বিউটি
মাটির স্পর্শে ত্বকের যত্ন

মডেল: জিনিয়া নুসরাত। সাজ: শোভন মেকওভার। ছবি: আশরাফুল আলম।
সাধারণ কাদার চেয়ে বরং ক্লে মাস্ক ব্যবহারে ত্বক হতে পারে সুস্থ ও সুন্দর। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ফারিয়া এজাজ
সুস্থ ও সুন্দর ত্বক পেতে নিয়মিত ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। কিন্তু প্রতিদিনের ধুলোবালি, রোদ, দূষিত আবহাওয়া ও ব্যস্ততার কারণে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারায় ত্বক। অনেক সময় মুখে অতিরিক্ত তেল জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্রণ বা কালসিটে দাগ দেখা দেয়। এসব সমস্যা কমাতে ক্লে মাস্ক হতে পারে একটি সহজ ও কার্যকর সমাধান। এটি ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার এবং অতিরিক্ত তেল দূর করার পাশাপাশি ত্বককে সতেজ ও পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
ক্লে মাস্ক কী
এটি প্রাকৃতিক মাটি বা খনিজ উপাদান দিয়ে তৈরি একটি ফেস মাস্ক। এ মাটিতে থাকা বিভিন্ন খনিজ উপাদান ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা ও অতিরিক্ত তেল শোষণ করে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের ক্লে মাস্ক পাওয়া যায়। এর মধ্যে কাওলিন, বেন্টোনাইট, ফ্রেঞ্চ গ্রিন এবং রেড ক্লে বেশি জনপ্রিয়। ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক মাস্ক বেছে নিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
উপকারিতা ও প্রয়োগ কৌশল
হার্বস আয়ুর্বেদিক স্কিন কেয়ার ক্লিনিকের রূপবিশেষজ্ঞ আফরিন মৌসুমি জানান, ক্লে মাস্কের সঙ্গে পানির বদলে আলুর রস ব্যবহার করলে কার্যকরী ফল পাওয়া সম্ভব। এর ফলে ত্বকের যেকোনো ধরনের দাগ-ছোপ, রোদে পোড়াভাব এবং বলিরেখা দূর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এ ছাড়া সারা দিনের ধুলোবালি, ঘাম ও দূষণের কারণে লোমকূপে যেসব ময়লা জমে যায়, সেগুলো পরিষ্কার করতে সাহায্য করে ক্লে মাস্ক। এর প্রয়োগে ত্বক সতেজ হয়ে ওঠে। যাদের ত্বক খুব বেশি তৈলাক্ত, তাদের জন্য এ মাস্ক বেশ উপকারী।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক মাস্ক বেছে নিলে ভালো ফল পাওয়া যায়
ক্লে পাউডারের সঙ্গে এক চা চামচ পুদিনা পাতা ও দুটি লবঙ্গের রস মিশিয়ে সেই পেস্ট মাসখানেক ব্যবহার করলে যেকোনো র্যাশ, ব্রণ অনেকটাই সেরে যায়। ক্লে মাস্ক ত্বকের মৃত কোষ দূর করতেও উপকারী। এর ব্যবহারে ত্বক আগের তুলনায় আরও পরিষ্কার, মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখায়।
বলিরেখা দূর করতে ক্লে মাস্কের সঙ্গে একটি ডিমের কুসুম ও কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন ভালোভাবে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ পেস্ট সপ্তাহে তিন-চার দিন প্রয়োগ করলে ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না। তা ছাড়া মাস্কটির নিয়মিত ব্যবহার ত্বককে বেশ টানটান করে তোলে। মাস্ক পরিষ্কারের সময় মুখে প্রথমে কুসুম গরম পানি এবং আলতোভাবে আইস কিউব ব্যবহার করা ভালো।
কোন ত্বকের জন্য কোন মাস্ক
তৈলাক্ত ত্বক: বেন্টোনাইট বা ফ্রেঞ্চ গ্রিন ক্লে ভালো কাজ করে।
শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বক: কাওলিন ক্লে তুলনামূলক মৃদু, তাই এটি ব্যবহার করা ভালো।
মিশ্র ত্বক: কাওলিন বা বেন্টোনাইট— এ দুয়ের যেকোনো একটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
নিস্তেজ ত্বক: এমন ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে রেড ক্লে সাহায্য করে।
মনে রাখুন
সপ্তাহে এক বা দুবার ক্লে মাস্ক ব্যবহার করাই যথেষ্ট। মাস্ক পুরোপুরি শক্ত হয়ে যাওয়া পর্যন্ত মুখে রাখবেন না; এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। নতুন কোনো ক্লে মাস্ক ব্যবহারের আগে হাতে বা কানের পেছনে সামান্য প্রলেপ দিয়ে পরীক্ষা করে নিন। ত্বকে কাটা, ঘা বা অ্যালার্জি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্লে মাস্ক ব্যবহার করা বারণ। মাস্ক ব্যবহারের পর পর্যাপ্ত পানি পান এবং দিনের বেলা বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
ব্যবহারবিধি
- প্রথমে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।
- এরপর পাতলা একটি পেস্ট বানিয়ে পুরো মুখে প্রলেপ দিন।
- চোখ ও ঠোঁটের চারপাশে মাস্ক লাগাবেন না।
- ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।
- মাস্ক হালকা শুকিয়ে এলে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
- শেষে একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।






