নদীগর্ভে বিলীনের পথে সাত দশকের বাণীশান্তা যৌনপল্লী

পশুর নদীতে বিলীনের পথে ঐতিহ্যবাহী বাণীশান্তা যৌনপল্লী। ছবি: আগামীর সময়
পশুর নদীর তীব্র স্রোত ও নিয়মিত ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে খুলনার দাকোপ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাণীশান্তা যৌনপল্লী। মোংলা সমুদ্রবন্দর প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৪ সালে গড়ে ওঠা সরকারি নিবন্ধন করা প্রায় সাত দশকের পুরনো এই পল্লী এখন নদীগর্ভে বিলীনের পথে।
এরই মধ্যে ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি ও চলাচলের রাস্তা নদীতে বিলীন হয়েছে। বাকি ঘরগুলোর অনেকগুলোতেও দেখা দিয়েছে ফাটল। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পল্লীর বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পশুর নদীর অব্যাহত ভাঙনে পল্লীর সীমানা দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। নদীর তীরের বেশ কিছু ঘরবাড়ি কয়েক দফায় নদীগর্ভে চলে গেছে। বসতভিটা হারিয়ে অনেকেই এখন দিশাহারা। একসময় এই পল্লীতে কয়েকশ নারী বসবাস করলেও ভাঙন ও স্থানান্তরের কারণে বর্তমানে বাসিন্দার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩০ জনে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা জানালেন, নদীভাঙনে বসতভিটা হারানোর পাশাপাশি জীবিকার একমাত্র আশ্রয়ও হারাচ্ছেন পল্লীর নারীরা। চারপাশে লোনা পানি থাকায় পানীয় জলের জন্য দূর থেকে নৌকায় করে পানি এনে ব্যবহার করতে হয়। দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের কোনো পরিকল্পনা না থাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
বাণীশান্তা যৌনপল্লীর ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী লাভলী বেগম বলেছেন, নদীভাঙনের কারণে ঘর সরাতে সরাতে এখন আর পেছনে যাওয়ার জায়গা নেই। নদীতে ঘর ভেঙে গেলে কিছুটা পেছনে গিয়ে আবার ঘর তুলতে হয়। এভাবে কত দিন টিকে থাকা সম্ভব, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।
তিনি আরও বললেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নদী থেকে সরাসরি ঝড় এসে ঘরবাড়িতে আঘাত হানে। চারপাশে লোনা পানি থাকায় পানীয় জলের জন্য দূর থেকে পানি কিনে আনতে হয়। তাদের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেছেন, পল্লীর বাসিন্দাদের মানবিক সংকট ও নদীভাঙনের শোচনীয় অবস্থা তিনি সরেজমিনে দেখেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে নদীভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান জানালেন, তিনি সম্প্রতি এখানে যোগ দিয়েছেন। খুব শিগগিরই স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




