পদোন্নতি ইস্যুতে ববিতে শাটডাউন, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের শাটডাউন কর্মসূচি। ছবি: আগামীর সময়
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। একই একাডেমিক ও প্রশাসনিক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
আজ সোমবার সকাল থেকে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেন। ফলে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, পদোন্নতির দাবিতে গত ২১ এপ্রিল থেকে প্রায় ৬০ শিক্ষক আন্দোলন করে আসছেন। এর আগে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করলেও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে এবং উপাচার্যের আশ্বাসে তা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় রবিবার জরুরি সভা করে আবারও সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষকরা।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন কয়েকজন শিক্ষক। রবিবার প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেন সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল। একই দিন সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন সহযোগী অধ্যাপক ড. তানভীর কায়সার।
সোমবার আন্দোলনরত শিক্ষকদের চাপে রেজিস্ট্রার হুমায়ন কবির কার্যালয় ত্যাগ করেন। পরে শিক্ষকরা রেজিস্ট্রার ও অর্থ দপ্তরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেছেন, উপাচার্যের কার্যক্রমে শিক্ষকরা বিব্রত ও হতাশ। বর্তমান উপাচার্যের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সক্ষমতা নেই।
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুব্রত কুমার দাস জানিয়েছেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই তারা পদোন্নতি চান। বারবার আশ্বাস দিয়েও প্রশাসন পদোন্নতির বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এটি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানিয়েছেন, অচলাবস্থা নিরসনে জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে শিক্ষকদের পাঁচজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য, অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য সংবিধি প্রণয়ন প্রয়োজন। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। লেকচারার থেকে সহকারী অধ্যাপক এবং সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিতে কোনো জটিলতা নেই। মূল সমস্যা অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নিয়ে।
উপাচার্য আরও উল্লেখ করেছেন, ইউজিসি অনুমোদিত অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। তবে শিক্ষকদের চাওয়া অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে গেলে তা আইনসিদ্ধ নাও হতে পারে। ভবিষ্যতে বেতন-ভাতা জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
শিক্ষকদের ক্লাস ও পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য ড. তৌফিক আলম বলেছেন, যেকোনো সংকট আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে কাউকে জোর করে কর্মবিরতিতে বাধ্য করা আইনবিরোধী কাজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত ২১ এপ্রিল পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। প্রথমে কর্মবিরতি, পরে শাটডাউন এবং ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে তা স্থগিত করা হলেও সোমবার থেকে আবারও পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি শুরু হয়েছে।




