আমেরিকানদের চোখ ৩ নভেম্বরে, আর ট্রাম্পের মনোযোগ যুদ্ধে

ভোটারদের ৫ হাজার, ৫ শত ডলার প্রদান ও স্বাস্থ্য সেবা বৃদ্ধির প্রতিশ্রম্নতিতেও থামছে না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ধ্বস। সাধারন মানুষের আস্থার সংকট বাইডেনের মতোই ট্রাম্পও পতন ফাঁদে পা দিচ্ছেন।‘ প্রেসিডেন্ট বাইডেনের শাসনামলে অর্থনীতির উন্নয়ন ও জনকল্যাণকর কাজগুলোও আমেরিকানরা ইতিবাচকভাবে নেয়নি। বরং জনমত জরিপের ফলাফল ছিল উল্টো।’ ট্রাম্পের সময়ে বন্ড বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ সম্প্রতি সুদের হার বাড়িয়েছে। ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ এবং ইরানের সাথে সংঘাত সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব কিছুই তার জনসমর্থন বা জনমত জরিপের ফলাফল কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।’ (ক্যারিন জিন পেরি, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রেস সেক্রেটারি)।
ক্ষমতার ভারসাম্যের ঝঁকিতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ, প্রতিবেশি কানাডার সাথে বৈরি সম্পর্ক গড়ে তোলা ও ইউরোপের সাথে বাকতিন্ডায় অস্থির সাধারন মানুষ। ট্রাম্প সত্য বললেও অনেকে তা আস্থায় নিতে পারেন না। নতুন করে কিউবার সাথে উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন ট্রাম্প। নির্বাচনের মাত্র ৩০ দিন আগে ৩টি যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছেন ইরান অভিমুখে। সাধারন মানুষের যে এ সবের সায় নেই। সেদিকে ভ্রম্নক্ষেপ নেই ট্রাম্পের। মানুষ চায় গ্যাস স্টেশনে স্বস্তি। গ্যালনপ্রতি এখন ৬ ডলারের উপরে। গ্রোসারীর দোকোনে আগুন। মানুষ সঞ্চয় ভাংছে প্রতিদিন। আইনশৃংখলার চরম অবনতি ঘটছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের গণেশ উল্টে যেতে পারে। অধিকাংশ জরিপেই ট্রাম্পের দল রিপাবলিক্যান পার্টির ভরাডুবির আভাস দিচ্ছে। কংগ্রেসের আপার হাউজ সিনেটে ৪টি ও লোয়ার হাউজ ৭টি আসনে রিপাবলিক্যানদের পরাজিত করতে পারলে (নিজেদের আসনগুলো ধরে রেখে) ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ দলে পরিণত হবে। তখন সবগুলো কমিটির সভাপতির আসনে বসবে তারা। লাগাম টেনে ধরবে ট্রাম্প প্রশাসনের। বিচারক নিয়োগ ও রাষ্ট্রের ব্যয় মেটানোর জন্য ট্রাম্পকে ধর্ণা দিতে হবে ডেমোক্র্যাটদের কাছে। যুদ্ধের নাগাল টেনে ধরতে পারে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। অনাস্থার মুখোমুখিও হতে পারেন ট্রাম্প। ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ২০২৬ সালের নির্বাচনের তাপ লাগবে সেই নির্বাচনে। এতে কোন সনে্হ নেই। তখন ব্যালটে ট্রাম্প থাকতে পারবেন না টার্ম লিমিটের কারণেই। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও পরাজয়ের স্বাদ পেতে পারে রিপাবলিক্যান পার্টি।
মধ্যপ্রাচ্যের ইরান, রাশিয়া—ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের সাথে কূটনৈতিক টানাপেড়েন, কানাডার সাথে বানিজ্য বিরোধ ও কিউবাকে যুদ্ধের হুমকি কোনটাই আমেরিকানদের আর্কষিত করছে না। একবার আস্থার সংকট দেখা দিলে তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। যেটি পারেননি বাইডেনও। যার খেশারত দিতে হয়েছে ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কমলা হারিসকে। নির্বাচনের আর একমাস বাকী। গনতন্ত্রের পথে কন্টক ছড়িয়ে ট্রাম্প ভিন্ন পথে হাঁটতে চাইছেন কিনা এমন প্রশ্ন বহু আমেরিকানেরও। নতুন করে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের দামামায় নামছেন ট্রাম্প। সেটাও নির্বাচনী কৌশল কিনা তাও দেখছেন ভোটাররা। তবুও মানুষ চোখ রাখছে ৩ নভেম্বরের দিকেই।
ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির (জিওপি) সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন , ৩ নভেম্বর জিতলে যুক্তরাষ্ট্রের সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ৫ হাজার ডলার করে অর্থ পাবেন।২ অক্টোবর আরও একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রম্নতি দিলেন। ২ কোটি বয়স্ক আমেরিকানকে বিশেষ স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করবেন। প্রত্যেকে এককালীন ৯০ ডলার (বাংলাদেশি ১০ হাজার টাকা) পাবেন। নির্বাচনের আগে ভোটারদের এ ধরনের অর্থের বেনিফিট দেয়ার ঘোষণাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে রিপাবলিকান নেতার করা ধারাবাহিক আর্থিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে এটি সর্বশেষ সংযোজন। কৌশলবিদদের মতে, এই পদক্ষেপটি নির্বাচনের কিছু ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন আলাদাভাবে প্রায় ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) আমেরিকানকে ৫০০ ডলার করে অর্থ প্রদানের ব্যবস্থাও করছে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্যমতে, এই অর্থ প্রদান মূলত একটি 'রিফান্ড' বা অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া। 'অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট'—এর আওতায় যারা স্বাস্থ্য বীমা কিনেছিলেন, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হয়েছিল—সেই অর্থই ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে ইরান—ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা সামাল দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বা 'অ্যাপ্রম্নভাল রেটিং' বর্তমানে কম।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স



