নিহত সোহাগের ১১ বছরের ছেলের খেদ
সবাইকে জামিন দিক, আমাদের সেফ কাস্টডিতে রাখুক

ছবি: আগামীর সময়
পুরান ঢাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যামামলার প্রধান আসামি জামিন পাওয়ায় খেদ প্রকাশ করলে তার কিশোর ছেলে সোহান। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে সে বলেছে, আসামিরা জামিন পেলে নিরাপত্তার খাতিয়ে তাদেরই যেন নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়।
আজ রবিবার হাইকোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে বাবা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামির জামিনের প্রতিক্রিয়া জানায় ১১ বছরের সোহান।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সোহাগ হত্যামামলার প্রধান আসামি মাহমুদ হাসান মাহিনকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পাশাপাশি মাহিনকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন।
নিহত সোহাগের ছেলে সংবাদ সম্মেলনে বলছিল, ‘মাহিন মাস্টারমাইন্ড। তাকে কীভাবে জামিন দেওয়া হলো, এটা আমি আইনের কাছে প্রশ্ন রাখলাম।’
এর ফলে তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সোহান বলছিল, ‘সবাইকে জামিন দিয়ে দিক, আর আমাদের সেফ কাস্টডিতে রাখুক। যেন অন্তত আমরা সেফ কাস্টডিতে থাকি, কারণ ওরা বের হলে তো আমরা সেফ নই।’
২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যায় পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে (৩৯) পাথর দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ও কুপিয়ে হত্যা করে এক দল ব্যক্তি।
এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তখন থেকে নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে আসছিলেন সোহাগের স্ত্রী লাকি বেগম।
সব আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সোহান বলেছে, ‘দুই নম্বর আসামি টিটু, তাকে এখনো ধরা হচ্ছে না। ১ বছর ৩ মাস হয়ে গেছে, তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।’
হাইকোর্ট প্রধান আসামিকে জামিন দেওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় জানিয়েছে, এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করবে রাষ্ট্রপক্ষ।
সোহাগ হত্যা মামলাটি বর্তমানে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আলমগীর হোসেনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগমের করা এই মামলায় আসামি মোট ২১ জন।
গত বছরের ৮ ডিসেম্বর মামলাটিতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক মনিরুজ্জামান। গত ১২ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে বিচার শুরু হয়।




