মোবাইলে ডেকে নিয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

কলেজছাত্র রবিউল গাজী
পটুয়াখালীতে রবিউল গাজী (১৮) নামে এক কলেজছাত্রকে রাতে মোবাইলে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে দশমিনার আলীপুর ইউনিয়নের চাঁদপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত রবিউল দশমিনা এ আর টি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এবং চাঁদপুরা গ্রামের মিলন গাজীর ছেলে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন তিনি।
রবিউলের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, চাঁদপুরা গ্রামের সিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে রবিউলের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এর জেরে সুমাইয়ার মাধ্যমে রবিউলকে রাতে তাদের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। পরে সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগ।
প্রতিবেশী রাকিবুল ইসলাম রাকিব জানান, চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় সিমা বেগমের বাড়ির জানালার ফাঁক দিয়ে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি প্রতিবেশী মেহেরুন বেগমের বাড়িতে গেলে সেখানে রবিউলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। একপর্যায়ে রবিউল জ্ঞান হারান।
ইউপি সদস্য ফখরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তিনি রবিউলকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে স্থানীয়দের নিয়ে সিমা বেগমের বাড়িতে গিয়ে সিঁড়ির নিচে, মেঝে ও পেছনের দরজার কাছে রক্তের দাগ দেখতে পান। রক্তের দাগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিমা বেগম জানান, তারা রাজহাঁস জবাই করছিলেন।
সিমা বেগম বলেছেন, সন্ধ্যায় বাড়ির আশপাশে কয়েকজনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে চুরির আশঙ্কা করেছিলেন। গভীর রাতে আত্মরক্ষার জন্য জানালার ফাঁক দিয়ে দা দিয়ে কোপ দিয়েছেন।
রবিউলের সঙ্গে তার মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের কথাও নাকচ করেন তিনি। বলেন, এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ নেই। অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



