রামপাল কি সত্যিই গ্রিডে ১,৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিচ্ছে?

সংগৃহীত ছবি
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাবে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২৩৪ মেগাওয়াট। অথচ শনিবার বিকেলে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়ে ৮৭ মেগাওয়াট বেশি বিদ্যুৎ কীভাবে উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্ধারিত পরীক্ষার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থাপিত ও সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যাচাই করে পিডিবি। কেন্দ্র চালুর পর এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে এ পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষায় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থাপিত সক্ষমতা ১ হাজার ২৩৪ মেগাওয়াট এবং উৎপাদন সক্ষমতাও প্রায় একই দেখানো হয়েছে।
শুক্রবার রামপাল থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। আর শনিবার সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনের প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল। তবে বিকেলে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে এবং তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম আগামীর সময়কে জানান, কেন্দ্রটির দুই ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রথম ইউনিট থেকে ৬৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে বলে জানান তিনি। দুই ইউনিট মিলিয়ে এটিই কেন্দ্রটির সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন বলে তার দাবি।
পিডিবির হিসাবে কেন্দ্রটির সর্বোচ্চ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২৩৪ মেগাওয়াট বলে তাকে জানানো হলে আনোয়ারুল আজিম বলেন, আগের পরীক্ষায় সক্ষমতা কম পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা বেড়েছে। নতুন করে পরীক্ষা করা হলেই এর প্রমাণ মিলবে।
তিনি বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকার পর বর্তমানে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।’
তবে কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত পুরো বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় না। কেন্দ্রের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ বাদ দিয়েই গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
আনোয়ারুল আজিমও বিষয়টি স্বীকার করে জানান, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় ৭১ মেগাওয়াট। এই বিদ্যুৎ বাদ দিলে কেন্দ্রটি থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। সে হিসাবে ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট গ্রিডে সরবরাহের দাবি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কেন্দ্রটির সক্ষমতা আসলে কতটা বেড়েছে, তা নতুন করে পরীক্ষা করা হলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সমান অংশীদারত্বে নির্মিত হয়েছে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় গঠিত বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) পরিচালনা করছে কেন্দ্রটি।




