হাজারো ক্ষেপণাস্ত্রে ইরান ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিও শেষ। তবে আলোচনায় অনীহা নেই ওয়াশিংটনের। গত শুক্রবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে সে ঘোষণাই দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নড়েচড়ে বসেন মধ্যস্থতাকারীরা। তড়িঘড়ি করে ইরানে ছুটে যায় কাতারের প্রতিনিধিদল। করে টানা ১১ ঘণ্টা আলোচনা। মাঠে নামে ওমানও। দীর্ঘ ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে রাজধানী মাসকাটে টেনে নিয়ে আসেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি। ফলাফল কী হবে সেটা পরের কথা— কিন্তু তার আগেই বারুদ পোড়া মরু হাওয়া আবারও উত্তপ্ত করে তুললেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্রে ইরানকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পাল্টা ধমকে, বাবা (আয়াতুল্লাহ খামেনি) হত্যার চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। গার্ডিয়ান, রয়টার্স, মিডল ইস্ট আই।
আরও বড় যুদ্ধের ঝড় উঠছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের গত কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলা, হুমকির সে আঁচেই গরম হয়ে উঠেছে কূটনীতির হাওয়া। সুযোগে আগুনে ঘি ঢালতে ভুল করেনি নাটেরগুরু ইসরায়েলও। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার ছক কষছে ইরান— গত বৃহস্পতিবার গোপন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে হোয়াইট হাউজকে। ট্রাম্প তখন আঙ্কারার ন্যাটো সম্মেলনে। সতর্কতার কারণে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানের বদলে পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ানে তুরস্ক ছাড়েন। পরে যুক্তরাজ্য থেকে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন এয়ারফোর্সে নিজ দেশে ফেরেন। পুরনো এয়ারফোর্সটি তুলনামূলক অনেক বেশি সুরক্ষিত ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষামূলকব্যবস্থা সমৃদ্ধ। হোয়াইট হাউজে ফিরেই ইরানকে নিশ্চিহ্ন করতে এ যাবতকালের সবচেয়ে ভয়ংকর হুঙ্কারটি ছাড়েন ট্রাম্প। শুক্রবার রাতেই ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লেখেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করে বা হত্যার চেষ্টা চালায়, তাহলে দেশটির দিকে তাক করে রাখা ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে। শুধু তা-ই নয়, প্রয়োজনে এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইরানের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সে প্রসঙ্গ টেনে তিনি বললেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে হত্যা বা হত্যার চেষ্টা করা হলে তার জবাব হবে কঠোর এবং ব্যাপক। তার দাবি, ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র এর মধ্যেই ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ অবস্থায় রয়েছে এবং সেগুলোর লক্ষ্য ইরান। পাশাপাশি আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাৎক্ষণিকভাবে হামলায় অংশ নিতে প্রস্তুত থাকবে।
বাবা হত্যার প্রতিশোধ ‘অবশ্যম্ভাবী’: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ পূর্বসূরিদের হত্যার প্রতিশোধ ‘অবশ্যম্ভাবী’। গত বৃহস্পতিবার বাবার দাফনের দুদিন পর এটিই তার প্রথম বার্তা। শুক্রবার স্বাক্ষরিত বার্তাটি গতকাল টেলিগ্রামে প্রকাশ করেছে তেহরান।
হরমুজে অসহায় যুক্তরাষ্ট্র: মুখে
বড় কথা বললেও হরমুজে যে অসহায় হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র; শনিবার সেই ভয় নতুন করে আবার
প্রকাশ হলো ওমানে। ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পরোক্ষ বৈঠকে হরুমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ
চলাচলে ইরানের সবুজসংকেত চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। এদিনের আলোচনার মূল বিষয়
ছিল হরমুজ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে সকালে মাসকাটে আসেন ইরানের প্রতিনিধিদল।
তেহরানের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বসে মাসকাট। মার্কিন
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-ও ছিলেন সে
দলে। সেখানে হরমুজে হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৈঠক শেষে এক্সে দেওয়া
পোস্টে আরাঘচি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে ইরান ‘নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে,
যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে যুক্তরাষ্ট্রই।’ প্রসঙ্গত, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা
বন্ধসহ জলপথটি সবার জন্য উন্মুক্ত করতে ইরানকে আজ শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অ্যাক্সিওস, পলিটিকো।




