কক্সবাজারে পাহাড়ধসে গৃহবধূর মৃত্যু

গৃহবধূকে উদ্ধার করা হলেও, শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি। ছবি: সংগৃহীত
সবে চুলায় রান্না চড়িয়েছেন রোজিনা আক্তার। অন্যাদিনের চেয়ে কিছুটা দেরি হয়েছে আজ। অপেক্ষা করছেন, কখন শেষ হবে রান্না, কখন পরিবারের সবাইকে দেবেন রাতের খাবার। তবে নিয়তির কী নির্মম পরিহাস। সেই রান্না আর শেষ হয়নি। তার আগেই মৃত্যু হয়ে নেমে আসে পাহাড়ের মাটি। চাপা পড়ে যায় রান্নাঘর, সেই সাথে রোজিনাও। এক ঘন্টার চেষ্টায় আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করা হলেও, শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি।
শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পূর্ব কলাতলী ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিরঝিরি পাড়া এলাকায় ঘটে এ দুর্ঘটনা। নিহত রোজিনা আক্তার ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মুজিবের স্ত্রী এবং সুলতান আহমদের মেয়ে।
পরিবারের ভাষ্য, রাতের খাবার প্রস্তুতের জন্য নিজ বাড়ির রান্নাঘরে কাজ করছিলেন রোজিনা। এ সময় পাশের পাহাড়ের একটি অংশ ধসে সরাসরি রান্নাঘরের ওপর এসে পড়ে। মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন তিনি। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টা চালান উদ্ধার অভিযান। গুরুতর আহত অবস্থায় রোজিনাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাইয়ের অভিযোগ, ‘৫০ বছর ধরে আমরা এই এলাকায় বসবাস করে আসছি। আমাদের বাড়ির ওপরের অংশে কিছু লোক দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাহাড় কাটছিল। সেই কাটা পাহাড়ই ধসে আমার বোনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা চাই।’
প্রতিবেশীরা জানান, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ের মাটি আগে থেকেই নরম হয়ে ছিল। এর সঙ্গে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে পাহাড়টি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই ঝুঁকিই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে একটি প্রাণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটা হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসে প্রাণহানি এবং বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। তাদের মতে, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা থাকলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। তাই অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।




