বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সঠিক পথে সরকার
- ‘যোগ্যতার ভিত্তিতে’ সরকারি চাকরি
- স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ে জরিপ

সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটি। গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রতিশ্রুত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে মনে করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট দলটির স্থায়ী কমিটি। একইসঙ্গে বেকার সমস্যা সমাধানে ‘যোগ্যতার ভিত্তিতে’ সরকারি চাকরি প্রাপ্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে রাজনৈতিক দলটি। এ ক্ষেত্রে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো ‘অন্ধ দলীয়করণ’ করতে চায় না বিএনপি। এ ছাড়া চলতি বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা এবং এ জন্য এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের পক্ষে মত দিয়েছে স্থায়ী কমিটি।
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। রাত সাড়ে ৭টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানা গেছে, বৈঠকে সরকারের কার্যক্রম, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় কাউন্সিল, সাংগঠনিক অবস্থা এবং দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিশ্রুত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। তাদের অভিমত, এরই মধ্যে মোটা দাগে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সুদসহ দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন-পুনঃখননের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থায়ী কমিটি। একইসঙ্গে বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো আগামী দিনে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে, তা নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে।
এতে আওয়ামী নির্যাতন-নিপীড়নে ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। স্থায়ী কমিটির কোনো কোনো নেতা বলেন, দলের নেতাকর্মীরা গত ১৭ বছর দারুণ বিপর্যয়ের মধ্যে ছিল। কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়েছেন। এখন তাদেরকে কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা যায়— সেটা আমাদের ভাবা দরকার। তখন যার যোগ্যতা আছে, যে কোয়ালিফাইড— তাদেরকে মূল্যায়ন করার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তবে এ সময় নীতিগত সিদ্ধান্ত তুলে ধরে বলা হয়, চাকরির ক্ষেত্রে মেধার মূল্যায়ন করা হবে। সেজন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো শুধু রাজনৈতিক পরিচয় দেখে চাকরি দেবে না বিএনপি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। নির্দলীয়ভাবে হতে যাওয়া এ নির্বাচন কবে নাগাদ শুরু করা যেতে পারে— সেটা নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। কেউ কেউ মত দেন— এই বছরের শেষের দিকে শুরু করা যেতে পারে। তখন দু-একজন সদস্য আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে মর্মে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের করা সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গটি আলোচনার টেবিলে তোলেন। কিন্তু বিএনপি চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত সদস্যরা বিষয়টি নাকচ করে দেন। বেশিরভাগ সদস্য চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন শুরু করার পক্ষে মতামত দেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো মাস নির্ধারণ করা হয়নি বৈঠকে।
এ ছাড়া বেশিরভাগ সদস্য বৈঠকে অভিমত তুলে ধরে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে। এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। বৈঠকে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে জরিপ করার ওপর আলোচনা হয়।
একাধিক সূত্র বলছে, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। তখন দুইজন সদস্য দলের আগামী জাতীয় কাউন্সিল করার বিষয়টি সামনে আনেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তখন বলেন, দলের কাউন্সিল হবে। এ সময় বেশিরভাগ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল করার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া যেসব কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, সেগুলো পুনর্গঠনের পক্ষেও মতামত উঠে আসে বৈঠকে।
স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, সরকার গঠনের পর সবাই ব্যস্ত ছিল। অনেক দিন পর স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে, দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। তবে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এখন থেকে নিয়মিত বৈঠক হবে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটি ছিল দলের স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক। এর আগে চলতি বছরের ১৭ মে ও ৪ এপ্রিল কমিটির দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।




