ভাঙ্গায় দুর্ঘটনা
৫ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হলো ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যান চলাচল

দুর্ঘটনার ৫ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হলো ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যান চলাচল। ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক হয়েছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল। পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে শনিবার (১১ জুলাই) রাত ১২টার দিকে মহাসড়ক দিয়ে আবারও যান চলাচল শুরু হয়।
পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সুয়াদী এলাকায় ঘটে দুর্ঘটনা। বিকেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে একটি ডিমবোঝাই পিকআপ উল্টে গেলে সেটি সরাতে পুলিশ রেকার দিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এ সময় ঢাকা থেকে নড়াইলগামী নড়াইল এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উদ্ধারস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন আলগী ইউনিয়নের সুয়াদী গ্রামের আবু শেখের ছেলে ওবায়দুল শেখ (৪৫), লিটন মিয়ার ছেলে জয়নাল মিয়া (৩২), তুহিন শেখের ছেলে নুর নবী (১২), নগরকান্দা উপজেলার শংকরপাশা এলাকার কুদ্দুস মিয়ার ছেলে হাফিজুর (৩৫) এবং পুলিশের রেকার গাড়ির সহযোগী জালাল (৩৫)।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়ক অবরোধ করে কয়েকটি বাসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এতে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলালউদ্দিন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত একটি পিকআপ উদ্ধারকাজ চলাকালে ঘটে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পরে স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করলেও রাত ১২টার পর স্বাভাবিক হয়েছে যান চলাচল। ঘটনার কারণ তদন্ত করে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা।




