একবার গুছিয়ে উঠতে পারলে স্পেন ভয়ংকর

সিয়াম আহমেদ
অভিনয়ে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন সিয়াম আহমেদ। তার নতুন সিনেমা ‘আন্ধার’ মুক্তির অপেক্ষায়। বিশ্বকাপে তার পছন্দের দল স্পেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
হঠাৎ করে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিলেন। কারণ কী?
যেকোনো অভিনেতা যখন একটানা কাজ করতে থাকেন, তখন একটা সময় এসে মনে হয় এখনো অনেক কিছু শেখার আছে। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক সেটিই হয়েছে। ‘আন্ধার’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় গাজী রাকায়েত স্যারের সঙ্গে বিভিন্ন আইডিয়া শেয়ার করতাম। তখনই আমার মনে হয়েছিল, স্যারের কাছ থেকে শেখার মতো অনেক কিছু আছে। সবসময়ই মনে হয়, আমাদের সিনিয়র শিল্পীরা প্রত্যেকেই একেকজন লিভিং ইনস্টিটিউশন। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে যতটা সম্ভব শেখার চেষ্টা করা উচিত। নিজেও টানা অনেক দিন কাজ করেছি। তাই নিজের জন্য একটা রিস্টার্ট, একটা রিফ্রেশের প্রয়োজনও অনুভব করছিলাম। অভিনয়ের ক্র্যাফটকে আরও গভীরভাবে বুঝতে চাইছিলাম। কীভাবে একটি চরিত্রকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা যায়, কীভাবে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা যায়— এসব বিষয় নিয়ে ভাবছিলাম। সেখান থেকে রাকায়েত স্যারের সঙ্গে এই শেখার যাত্রা শুরু। আমাদের ক্লাসগুলোও ছিল অনেকটা পারস্পরিক শেয়ারিংয়ের মতো। শুধু শেখা নয়, আমরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করতাম। তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করেন, আমি তাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি। একটি সুন্দর, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও তৈরি হয়েছে। সিনিয়রদের কাছ থেকে এমন আন্তরিক সহযোগিতা এবং শেখার সুযোগ পাওয়া আমার কাছে সত্যিই আশীর্বাদের মতো।
যতদূর জানি ‘আন্ধার’ সিনেমাটি মুক্তির জন্য প্রস্তুত। বর্তমান অবস্থা কী?
‘আন্ধার’-এর পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে পুরোদমে। এরই মধ্যে আমার ডাবিং শেষ করেছি। ভিএফএক্সের কাজ হচ্ছে মুম্বাইয়ে, এডিটিংয়ের কাজ চলছে বাংলাদেশে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শিগগির সিনেমাটির প্রচার শুরু হবে বলে জেনেছি। দর্শকের মতো সিনেমাটি নিয়ে আমিও ভীষণ রোমাঞ্চিত। হরর ও সুপার ন্যাচারাল ঘরানায় এ ধরনের কাজ দেশীয় চলচ্চিত্রে খুব একটা দেখা যায়নি। আমার বিশ্বাস, এ সিনেমায় দর্শকের জন্য দারুণ কিছু চমক অপেক্ষা করছে।
‘জংলি’ ও ‘রাক্ষস’— দুই সিনেমাই ব্যবসাসফল হয়েছে। এগুলো আপনার মনের খোরাক কতটা মিটিয়েছে?
‘জংলি’ আমাকে দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শকের ভালোবাসা এনে দিয়েছে, এখনো পাচ্ছি। বিশ্বাস করি, আজীবন এই কাজের জন্য মানুষের ভালোবাসা পেয়ে যাব। অন্যদিকে, ‘রাক্ষস’-এ দর্শক আমাকে একেবারে ভিন্ন এক আঙ্গিকে দেখেছেন। সেই রূপও তারা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন। যে টার্গেট অডিয়েন্সকে মাথায় রেখে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তাদের কাছ থেকে খুব ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। বিশেষ করে অনেকেই আমাকে আবারও এমন অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে দেখতে চেয়েছেন। দর্শকের কাছ থেকে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া ও ভালোবাসা পাওয়া একজন শিল্পী হিসেবে আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করে।
ছোট পর্দায় আপনার ‘চকলেট বয়’ ইমেজ ছিল। বড় পর্দায় সেই ইমেজ খুব একটা পাওয়া যায়নি। কারণ কী?
নির্দিষ্ট কোনো ‘ইমেজ’ তৈরি করার কথা ভেবে কাজ হাতে নিই না। যে গল্প বা চরিত্র আমার অভিনেতা সত্তাকে সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করে, সেটিই করার চেষ্টা করি। সত্যি বলতে, কখনোই নিজেকে ‘চকলেট বয়’ ইমেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইনি। প্রেমের গল্প তুলনামূলক কম করেছি। কারণ, সেরকম গল্প খুব বেশি পাইনি। তবে যারা আমাকে আবারও রোমান্টিক চরিত্রে দেখতে চান, তাদের জন্য একটি সুখবর আছে। আগামী বছর একটি ভালোবাসার গল্প নিয়ে দর্শকের সামনে হাজির হবো।
এখন কী কী কাজ নিয়ে ব্যস্ত? নতুন কোনো সিনেমা বা ওটিটি প্রজেক্টের কাজ চলছে?
‘আন্ধার’ তো এ বছরই মুক্তি পাচ্ছে। আগামী বছর একটি সুন্দর ভালোবাসার গল্প নিয়ে দর্শকের সামনে আসব। সিনেমাটির প্রযোজক ও পরিচালক শিগগির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে আশা করছি। এ ছাড়া আরও কয়েকটি দারুণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে এবং কিছু কাজ পাইপলাইনে রয়েছে। সবকিছু চূড়ান্ত হলেই দর্শকের সঙ্গে সুখবরগুলো ভাগাভাগি করব।
আপনার প্রিয় দল স্পেন শেষ চারে উঠেছে। দলটির সম্ভাবনা কতটা দেখছেন?
স্পেন সবসময়ই শক্তিশালী একটি দল। তাদের একটা বৈশিষ্ট্য হলো, বড় টুর্নামেন্টের শুরুতে তারা অনেক সময় নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেতে একটু সময় নেয়। কিন্তু একবার গুছিয়ে উঠতে পারলে তারা ভয়ংকর প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে। অবশ্যই চাই এবং আশা করি, এবার শিরোপা স্পেনের হাতেই উঠবে। তবে ফ্রান্স আর আর্জেন্টিনাকেও শক্তিশালী দাবিদার মনে করি।




