হপকিন্সের প্রথম অ্যালবাম ‘সারা জীবন আমি সুরই সৃষ্টি করেছি’

অ্যান্থনি হপকিন্স
দুবারের অস্কারজয়ী ৮৮ বছর বয়সী অভিনেতা অ্যান্থনি হপকিন্স এবার সুরকার হিসেবে আবির্ভূত হলেন। বিশ্বের খ্যাতনামা শাস্ত্রীয় সংগীত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ডেকা ক্ল্যাসিকস থেকে শুক্রবার প্রকাশ পেয়েছে তার সিঙ্গেল ‘ব্র্যাকেন রোড’। গানটি ১৯৬৩ সালে লিভারপুল প্লেহাউজ থিয়েটারে তরুণ অভিনেতা হিসেবে কাজ করার সময় রচনা করেন। এ ছাড়া ‘মাই ফাদারল্যান্ড’ শিরোনামের আরেকটি সংগীতে তিনি নিজের মাতৃভূমি ওয়েলসকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। গানগুলো থাকছে ২১ আগস্ট প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা ‘লাইফ ইজ আ ড্রিম’ অ্যালবামে। অ্যালবামের অন্য সুরগুলোয় উঠে এসেছে সিনেমার প্রতি তার ভালোবাসা, স্ত্রীকে ঘিরে অনুভূতি, ভাতিজিকে নিয়ে স্মৃতি এবং জীবনের নানা আবেগঘন মুহূর্ত। গত ছয় দশকে রচিত হপকিন্সের অর্কেস্ট্রাল সংগীতের সংকলন স্থান পেয়েছে অ্যালবামটিতে। অ্যালবামটি পরিবেশন করেছে গ্র্যামিজয়ী গুস্তাভো দুদামেলের নেতৃত্বে ফিলহারমোনিয়া অর্কেস্ট্রা। এতে অংশ নিয়েছেন সেলোবাদক গ্রেগোরিও নিয়েতো এবং শাস্ত্রীয় পিয়ানোবাদক সের্হিও তিয়েম্পো।
গ্রামোফোন ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হপকিন্স বললেন, ‘সারাজীবন আমি সুরই সৃষ্টি করেছি। সংগীত আমাকে অনেক সময় চরিত্রের ভেতরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। আমার অভিনয়ে যে মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা দেখা যায়, তার পেছনে সংগীতের বড় ভূমিকা রয়েছে। বাস্তব জীবনে আমি বেশ আনন্দপ্রিয় হলেও আমার মধ্যে এক ধরনের বিষণ্নতা রয়েছে, যা ওয়েলসে কাটানো শৈশব থেকে বহন করে চলেছি। রালফ ভন উইলিয়ামস এবং এডওয়ার্ড এলগারের সংগীতের বিষণ্নতা ও প্রকৃতিনির্ভর সুর আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।’
১৯৯৪ সালে হপকিন্স নিজের পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগস্ট’-এর সংগীতও রচনা করেছিলেন। করোনা মহামারীর সময় লকডাউনে বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু করেন ‘অ্যান্থনি হপকিন্স লাইভ অ্যাট দ্য পিয়ানো’ নামের লাইভ অনুষ্ঠান। সেখানে তিনি নিজের সুর পিয়ানোতে বাজাতেন, দর্শকদের প্রশ্নের উত্তর দিতেন।
অভিনয়ে কিংবদন্তি অ্যান্থনি হপকিন্স ১৯৯২ সালে ‘দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস’ ও ২০২১ সালে ‘দ্য ফাদার’ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা বিভাগে দুটি অস্কার পুরস্কার অর্জন করেন।




