স্পেন না ফ্রান্স তিন কার?

স্প্যানিশ সুপারম্যান
শেষ চারের দুই দল তো নির্ধারণ হয়েই গেছে, সকালে পত্রিকা পাঠকের হাতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে জানা হয়ে যাবে বাকি দুই দলের নামও। নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড, দুই দলের জন্যই সেমিফাইনাল হবে নতুন এক অভিজ্ঞতা আর আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মুখোমুখি হওয়া মানে আরেকটা আগুনে লড়াইয়ের হাতছানি। আরেকটা বলতে হচ্ছে কারণ প্রথম সেমিফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্সের দ্বৈরথ এই সময়ের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ফুটবল দ্বৈরথের একটি। ইতিহাস, তারকাখ্যাতি, সাম্প্রতিক ফল কিংবা দুটি বিপরীতমুখী ফুটবল দর্শনের দ্বন্দ্ব; স্পেন বনাম ফ্রান্স দ্বৈরথে আছে সব উপাদান।
২০২২ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর লিওনেল মেসি বলেছিলেন, এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে সেই প্রতিজ্ঞা ভুলে মেসি খেলছেন, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তাই তার খেলে ফেলাও অবাস্তব নয়! যদি না-ই থাকেন, তাহলে মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো-পরবর্তী সময়ে যে দুজন ফুটবলারকে মনে করা হচ্ছে লম্বা রেসের ঘোড়া; তারা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামাল। এমবাপ্পে এরই মধ্যে বিশ্বকাপ জিতে, বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় মেসির ছায়ায় পা দিয়ে চলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে কিংবদন্তির কাতারে পৌঁছে গেছেন। যদিও এখনো তার ব্যালন ডি’অর জেতা বাকি, জিততে পারেননি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগও। বিশ্বকাপটা প্রথম উপস্থিতিতেই জিতেছেন, তবে এখনো জিততে পারেননি মহাদেশীয় শিরোপা ইউরো। সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইয়ামালই। ২০২০ সালের ইউরো, যেটা কভিড মহামারীর জন্য এক বছর পিছিয়েছিল, সেবার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করেছিলেন এমবাপ্পে, ফলে শেষ ষোলোতেই হেরে বিদায় নিয়েছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। এরপর ২০২৪ সালের ইউরোতে সেমিফাইনালে স্পেনের কাছেই হেরে বিদায় নিতে হয় ফরাসিদের। সেই ম্যাচে ইয়ামাল করেছিলেন সমতা ফেরানো গোল। এরপর এমবাপ্পের সঙ্গে ফ্রান্সের জার্সি গায়ে ইয়ামালের দেখা হয় উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে। সেই ম্যাচে এমবাপ্পে করেন ১ গোল আর জোড়া গোল ইয়ামালের। এমবাপ্পের এখন পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে সেরা সাফল্য তৃতীয় হওয়া, লিওনেল মেসি আর আর্লিং হলান্ডের পেছনে থেকে। গত বছরের ব্যালন ডি’অরে রানার্সআপ ইয়ামাল।
শেষ চার থেকে সেরা দুইয়ে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে, সময়ের সেরা দুই ফুটবলারের দ্বৈরথের আগে ইয়ামাল শেখালেন তিনের অঙ্ক, ‘এই ম্যাচ ঘিরে দুটি সম্ভাবনা আছে। হয় ফ্রান্স টানা তিনবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবে, অথবা আমরা তাদের টানা তৃতীয়বারের মতো হারাব। আমি জানি না কী হতে যাচ্ছে, তবে এটা বলতে পারি, আমরা ফ্রান্সকে ভয় পাই না।’
গোলের অঙ্কে অবশ্য এমবাপ্পে এগিয়ে। আসরে ৮ গোল আর ৩ অ্যাসিস্টে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এমবাপ্পে এগিয়ে। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইয়ামাল এখন পর্যন্ত করেছেন মাত্র ১ গোল। তবে গোলের সংখ্যাকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না ইয়ামাল, ‘দল জেতার জন্য গোল করাটা অবশ্যই দরকার এবং আমিও গোল করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাঠে নামার সময় আমি শুধু গোল করার কথাই মাথায় রাখি না। আমরা যদি বিশ্বকাপ জিততে পারি, তাহলে আমি কত গোল করেছি বা কয়টা সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছি, তা কেউ মনে রাখবে না। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সবাই উৎসবে মেতে উঠবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি ম্যাচসেরার পুরস্কার পেলে তো কথাই নেই, তবে সবকিছুর ওপরে আমার মূল লক্ষ্য হলো দলের জয়।’
ইয়ামালদের পূর্বসূরি জাভি-ইনিয়েস্তাদের সময়ের স্পেনেরও জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল ইউরো জিতে। ২০০৮ ইউরো, ২০১০ বিশ্বকাপ আর ২০১২ ইউরো— এই তিন আসর জিতেছিল স্পেনের সেই সোনালি প্রজন্ম। ফ্রান্সকে টানা তিনবার হারাতে পারলে ইয়ামালদের এই প্রজন্মটাও ত্রিমুকুট অর্জনের দিকে এগিয়ে যাবে আরেকটা ধাপ। শেষ চারের ম্যাচ ঘিরে তাই তিনের অনেক হিসাব!




