৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ তবু শঙ্কা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে

সংগৃহীত ছবি
দেশের অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শুধু বাজেটে বরাদ্দ ঘোষণা করলেই হবে না; এ খাতের বিকাশে প্রয়োজন যুগোপযোগী করনীতি, কপিরাইট সুরক্ষা, রয়্যালটি ব্যবস্থার সংস্কার এবং নীতিগত সহায়তা। অন্যথায় সৃজনশীল অর্থনীতি শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল শনিবার পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) আয়োজনে ‘আজকের এজেন্ডা: ক্রিয়েটিভ ইকোনমি— স্লোগান নাকি সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন চলচ্চিত্র, ওটিটি, প্রকাশনা, সংস্কৃতি ও হস্তশিল্প খাতের প্রতিনিধিরা।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ৮০০ কোটি টাকার কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে আরও সংগ্রহ করা হবে ৫০০ কোটি টাকা।
চলচ্চিত্র নির্মাতা তানিম নূর বলেছেন, চলচ্চিত্রশিল্পে বর্তমান করহার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা। ১০ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হলে প্রায় ২৩ শতাংশ বা ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা কর দিতে হয়। সিনেমাসংশ্লিষ্ট সব ধরনের কর অন্তত ৫০ শতাংশ কমানো উচিত। এতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে এবং কালো টাকার প্রবণতা কমবে। সরকারের সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশেও এ খাতে প্রায় ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব।
চরকির সিইও রেদওয়ান রনি বলেছেন, ওটিটিশিল্প দ্রুত বিকাশের সম্ভাবনা থাকলেও শুরু থেকেই এটি উচ্চ করের চাপে রয়েছে। দেশীয় প্ল্যাটফর্মগুলোকে গ্রাহকদের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের পাশাপাশি কর দিতে হচ্ছে, অথচ বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলো এই করের আওতার বাইরে। বৈষম্য দূর করে নতুন করনীতি প্রণয়ন না হলে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বাস্তবে এগোবে না।
সমাপনী বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বললেন, ‘সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, বরং কার্যকর নীতিগত সংস্কারই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। করনীতি, কপিরাইট সুরক্ষা, রয়্যালটি বণ্টন ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এ খাত দেশের অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।’
আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন, ও হস্তশিল্প খাতের উদ্যোক্তা তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম।




