ইরানে বোমা হামলার পরিকল্পনা করা ছয় ‘সন্ত্রাসী’ হত্যার দাবি আইআরজিসির

ইরানের আইআরজিসির এক সদস্য। ফাইল ছবি / রয়টার্স
ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী জাহেদানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকধারীদের সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের একটি ‘তাকফিরি সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীর সদস্য বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
‘তাকফিরি’ বলতে সাধারণত এমন উগ্রপন্থী ইসলামপন্থী মতাদর্শ বা গোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা অন্য মুসলমানকে ‘কাফের’ বা ইসলাম থেকে বিচ্যুত বলে ঘোষণা করে।
আইআরজিসির কুদস ঘাঁটির জনসংযোগ দপ্তর বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, জাহেদানের মানজেলাব এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরক উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
আইআরজিসির দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ওই দলটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনী জানতে পারে, তারা জাহেদানে একটি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে তাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।
এর আগে স্থানীয় বালুচ অধিকারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হালভাশ জানিয়েছিল, মানজেলাব এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও বন্দুকধারীদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে ভারী গোলাগুলির পাশাপাশি রকেটচালিত গ্রেনেডের শব্দও শোনা গেছে। সংঘর্ষ শুরু হয় ভোর ৬টার দিকে।
আইআরজিসি পরে জানায়, ওই সংঘর্ষেই ছয়জন নিহত হয়েছেন। শুরুতে কুদস ঘাঁটি কয়েকজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে অভিযান ও তল্লাশি চলার কথা বলেছিল। পরে তারা জানায়, নিহতের সংখ্যা ছয় এবং বেশ কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় বা তারা কোন গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিস্তান-বালুচিস্তান ইরানের অন্যতম অস্থির অঞ্চল। জাহেদানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়েও নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে একাধিক সংঘর্ষ হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের ঘটনায় হামলার পরিকল্পনা বা উদ্ধার করা বিস্ফোরকের বিষয়ে আইআরজিসির দাবির বাইরে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি।
সূত্র : ইরান ইন্টারন্যাশনাল, আলজাজিরা ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি




