ইরাকে সামরিক কার্যক্রম স্থগিত করল ইরানপন্থী কাতাইব হিজবুল্লাহ

ইরানের ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র ইরাকি গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহর পতাকা হাতে কয়েকজন সদস্য। ফাইল ছবি/ সংগৃহীত
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার পর সামরিক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ইরানের ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ। স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণভাবে সরে যাওয়ার পরেই এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে, ইরবিল বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার কাজ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ অভিযানও শেষ হয়েছে।
কাতাইব হিজবুল্লাহর নেতা আহমদ আল-হামদাউই বলেছেন, ইরাকে সামরিক কার্যক্রম স্থগিত করা হবে। তবে ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী ‘শত্রু বিমান’ লক্ষ্য করে অভিযান চালানো অব্যাহত থাকবে।
গোষ্ঠীটির মুখপাত্র জাফর আল-হুসেইনি আলাদাভাবে বলেছেন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইরাক সরকারের সঙ্গে আলোচনা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি বলেছেন, ‘প্রতিরোধের অস্ত্র যোদ্ধাদের হাতে আমানত হিসেবেই থাকবে।’ ইরাক বা দেশটির জনগণকে লক্ষ্য করে এমন যেকোনো শত্রুর বিরুদ্ধে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
কাতাইব হিজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির বিরোধিতা করে আসছে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে সোচ্চার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। গোষ্ঠীটি ও ইরানের ঘনিষ্ঠ অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অতীতে ইরাকে মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বা এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে এসব গোষ্ঠীর সামরিক তৎপরতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা মার্কিন উপস্থিতিও আর থাকছে না। ফলে এখন ইরাক সরকারের সামনে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নির্ধারণের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০১৪ সালে আইএসআইএল ইরাকের মসুলসহ দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল এলাকা দখল করার পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযান শুরু হয়। বুধবার জোটের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ইরাকে ওই অভিযান শেষ হলো।
এর আগে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে সামরিক অভিযান চালায়। ২০১১ সালে বেশির ভাগ মার্কিন সেনা ইরাক থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে আইএসআইএলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তার জন্য বাগদাদের অনুরোধে ৩ বছর পর আবার মার্কিন সেনারা ইরাকে ফিরে আসে।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর এখন ইরাকের নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব নিয়েছে দেশটির সরকার। বুধবার ইরাক সরকার জানিয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা এখনো চলছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির সরকারের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর এখনো বড় ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। তারা ইরাকের সরকারি নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে বা এর পাশাপাশি কাজ করছে।
২০০৩ সালের মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইরাক আগ্রাসনের সময় কাতাইব হিজবুল্লাহর উত্থান ঘটে। পরে ইরানের ঘনিষ্ঠ এ গোষ্ঠীটি ইরাকের অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠনে পরিণত হয়। আইএসআইএলের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও তারা ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বৃহত্তর জোটের অংশ হিসেবে যুদ্ধ করেছে।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পর দেশটি এখন নতুন নিরাপত্তা পর্বে প্রবেশ করছে। এ পর্বে ইরাকের সরকার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সেটিই বাগদাদের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র : ইরাকি নিউজ




