১৫ মিনিটের দেরিতে প্রাণ রক্ষা, নেপাল থেকে ফিরলেন পশ্চিমবঙ্গের দম্পতি

সংগৃহীত ছবি
নেপালে ভয়াবহ বন্যা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক অনুকূল পোদ্দার ও তার স্ত্রী রেবা। মাত্র ১৫ মিনিটের দেরি এবং গাড়িচালকের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত তাদের জীবন বাঁচিয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই দম্পতি।
মানসসরোবর তীর্থযাত্রায় ৩৭ সদস্যের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন অনুকূল ও রেবা। গত ২১ আগস্ট দলটি যাত্রা শুরু করে। তাদের মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ১৭ জন এবং তেলাঙ্গানার ২০ জন পর্যটক।
গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে চীন সীমান্তের কাছে একটি ইমিগ্রেশন সেন্টারের উদ্দেশে রওনা হন তারা। এর মধ্যেই উত্তর-মধ্য নেপালে আঘাত হানে ভয়াবহ বন্যা। এতে রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিপদ যে এতটা কাছে চলে এসেছে, শুরুতে তা বুঝতে পারেননি পর্যটকেরা। পথে অন্য চালকদের কাছ থেকে বন্যার খবর পেয়ে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পারেন তাদের গাড়িচালক। এরপর আর ঝুঁকি না নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে কাঠমান্ডুর দিকে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
অনুকূল জানান, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা তাদের গাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে ছিল। তার ভাষায়, ‘আর একটু এগিয়ে গেলে আমাদের পক্ষে ফিরে আসার কোনো সুযোগই থাকত না।’
বসিরহাটের কাছারিপাড়ার বাসিন্দা অনুকূল জানান, তখন আকাশ ছিল পরিষ্কার, আবহাওয়াও ছিল বেশ ভালো। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ এত বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসতে পারে, তা তারা ভাবতেই পারেননি।
দুপুরের মধ্যেই কাঠমান্ডুতে ফিরে আসেন তারা। নিরাপদে ফিরলেও ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় দলের সবাই মানসিকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে নিজেদের নিরাপদ থাকার খবর জানান।
অনুকূল বললেন, চালকের সময়োচিত সিদ্ধান্ত এবং ঈশ্বরের কৃপায় তারা বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছেন।
পরে অনুকূল তার প্রতিবেশী ও বন্ধু দিলীপ দত্তকে ফোনে জানান, শুধু চালকের সতর্কতাই নয়, নথিপত্র যাচাইয়ের কারণে হওয়া প্রায় ১৫ মিনিটের দেরিও তাদের বাঁচিয়ে দিয়েছে। দিলীপ জানান, ইমিগ্রেশন সেন্টারের পথে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য তাদের গাড়ি প্রায় ১৫ মিনিট আটকে ছিল। ওই সময়টুকুর কারণেই তারা বিপদসীমায় পৌঁছানোর আগে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন। কয়েক মিনিট আগে সেখানে পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত।
এদিকে পর্যটক দলটি নেপালে আটকে পড়েছে জানতে পেরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুকূলের শ্যালক প্রসূন রায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তাদের দেশে ফিরতে কোনো সহায়তা প্রয়োজন কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের ১৭ জন পর্যটক শুক্রবার নেপাল থেকে ভারতের উদ্দেশে রওনা হন। তাদের মধ্যে পাঁচজন বিমানে কলকাতায় ফেরেন। বাকি ১২ জন, অনুকূল ও রেবাসহ, কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ভারতীয় সীমান্তের কাছে বীরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। রবিবার কলকাতায় ফেরেন অনুকূল ও রেবা।
ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে রেবা বলছিলেন, ‘মনে হচ্ছে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। এখন স্বস্তি লাগছে। তবে যারা এই বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এবং সবকিছু হারিয়েছেন, তাদের কথা ভেবে কষ্ট হচ্ছে।’
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা








