‘প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার আবার গুমের ষড়যন্ত্র করছে’

সংগৃহীত ছবি
গুম প্রতিরোধের অধ্যাদেশ বাতিল করে তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের হাতে দিয়ে সরকার আবারও গুমের ষড়যন্ত্র করছে। এমন অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আজ রবিবার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন। ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটির’ উদ্যোগে বাংলামোটর থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত পদযাত্রা শেষে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘গুমের শিকার সংগ্রামী জনতা, জুলাই যোদ্ধা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে যারা গুমের শিকার হয়েছেন— তাদের স্মরণে আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। গুমের বিরুদ্ধে যে অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছিল, তা বাতিল করে গুমের ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের হাতে দিয়ে এই সরকার আবার গুম করার ষড়যন্ত্র করছে।’
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘গুম প্রতিরোধের যে অর্ডিন্যান্সটি বাতিল করা হয়েছে, তা বহাল রাখতে হবে। যারা গুম করে, তাদের হাতে তদন্তের দায়িত্ব থাকতে পারে না। গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন।’
এর আগে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বিকাল ৩টার দিকে বাংলামোটরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে পদযাত্রা করে সংসদ ভবনের সামনে সমবেত হন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা।
সমাবেশ শেষে কমিটির একটি প্রতিনিধি দল সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। এতে বাতিল করা গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।
স্পিকারকে স্মারকলিপি জমা দিয়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, আমরা অনেক আশা নিয়ে স্পিকারের কাছে গিয়েছিলাম। আমরা সবগুলো পয়েন্ট স্পিকারকে জানিয়েছি। তিনি আমাদের সাথে দ্বিমত করেননি। তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি বলেছি যে আইনটি করা হয়েছে, তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রীও প্রমাণ করতে পারবেন না যে, তার স্বামীকে গুম করা হয়েছিল। আমরা এ ধরনের আইন চাই না। আমরা বলেছি, ধৈর্যের সীমা আছে। দেশ ও দলের জন্য আগামী ৫ তারিখের লংমার্চসহ সকল কর্মসূচিকে সফল করতে দেশবাসীকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান হাসিনুর।
কর্মসূচিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন, জাগপার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম আরমান, শহীদ জাবের ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিভিন্ন দলের নেতারা কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন।








