সঞ্জীবদার গান নতুনভাবে রেকর্ড করব না

বাপ্পা মজুমদার
নিয়মিত গান প্রকাশ করছেন বাপ্পা মজুমদার। গান প্রকাশের সঙ্গে হচ্ছে নতুন সব অভিজ্ঞতা। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
আপনার সাম্প্রতিক দুটি গান ‘বুড়ো নাবিকের গল্প’ ও ‘গলে যাওয়া সময়’ এ পুরনো সময়, স্মৃতি ও জীবনের দিকে ফিরে তাকানোর একটা অনুভূতি আছে। এই ভাবনাগুলো কীভাবে এলো?
একসময় আমাদের সবাইকে বৃদ্ধ হতে হবে। এটা জীবনের একটা বাধ্যতামূলক পরিণতি। আগের প্রজন্ম তাদের লেগেসি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে দিয়ে যায়। সেরকম একটা ভাবনা থেকেই ‘বুড়ো নাবিকের গল্প’ লেখা। আর ‘গলে যাওয়ার সময়’ হচ্ছে বিশেষভাবে সময়কে নিয়ে। সময় কখনো থেমে থাকে না, পেছনেও ফিরে যায় না। সময়টা আসলে খুব নিষ্ঠুর। এই ভাবনার জায়গা থেকেই গানটি লেখা।
দুটি গানের ভিডিওতেই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন?
এআই তখনই সমস্যা, যখন একজন মানুষ পুরোপুরি এআই-নির্ভর হয়ে যায়। টুল হিসেবে, সাহায্যকারী হিসেবে ব্যবহার করলে সমস্যা নেই। ‘বুড়ো নাবিকের গল্প’ ভিডিওটি করেছে আহাদ অন্তর, আর অন্যটি করেছে মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। দুটো কাজেই তারা প্রচুর গবেষণা করেছে। তাদের নিজস্ব আর্টওয়ার্ক ব্যবহার করেছে। তার ওপর ভিত্তি করে ভিডিও তৈরি করেছে। শুধু প্রম্পট দিয়ে বানিয়ে ফেলা—বিষয়টি মোটেও এমন নয়।
আইয়ুব বাচ্চুর ‘রুপালি গিটার’ গানটি নতুনভাবে গেয়েছেন। তার গান করা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
যেকোনো বড় শিল্পীর গান করতে গেলেই একটা টেনশন থাকে—কতটুকু জাস্টিস করতে পেরেছি। শুধুমাত্র একটি ইন্টারলিউড ছাড়া বাচ্চু ভাইয়ের যে অ্যাকুস্টিক, লাইভ বা আনপ্লাগড ভার্সন ছিল, সেটাকে অনুসরণ করেছি। তবে বাচ্চু ভাই অনেক উঁচুমানের কম্পোজার। তার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারব না। চেষ্টা ছিল, তার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে কাজটি করা।
সঞ্জীব চৌধুরীর গানগুলো নতুন করে রেকর্ড করার কোনো পরিকল্পনা আছে?
লাইভে তো অনেক সময় অনুরোধ থাকে, করতেই হয়। কিন্তু সঞ্জীবদার গান আমি কখনো নতুনভাবে রেকর্ড করব না। কারণ আমি তার কণ্ঠটাই শুনতে চাই। আমার পুরনো কিছু গান শুধু অ্যাকুস্টিক গিটারে নতুনভাবে করছি এবং ভিডিও প্রকাশ করছি।
ইদানীং শিল্পীদের বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হচ্ছে। আপনার কমেন্ট?
কোনো কমেন্ট নেই। এখন কমেন্ট করতেও টেনশন লাগে। একবার কথা প্রসঙ্গে বলেছিলাম, ‘গানটাই পারি, গানটাই সারাজীবন করে যাব।’ পরে দেখলাম, এটা নিয়ে একটা ফটোকার্ড এসেছে। সেখানে অনেক ধরনের নেতিবাচক কথা।
গান প্রকাশের মাধ্যম বদলেছে। এখন ইউটিউব থেকে কি শিল্পীরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন?
একদম না। এটা তাদের জন্য ফিজিবল, যাদের বাল্ক কনটেন্ট আছে, শত শত, হাজার হাজার গান আছে—তাদের ক্ষেত্রে সেখান থেকে হয়তো কিছু একটা আসে। কিন্তু ইউটিউব থেকে যে খুব সাংঘাতিক ইনকাম হয়, তা কিন্তু নয়।
রুনা লায়লার মতো কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন।
আমার ইচ্ছা আছে সাবিনা ইয়াসমীন ম্যামের জন্য গান করার। ওনারও আমি ভীষণ বড় ভক্ত। এত বড় একজন শিল্পী, এত বড় একজন আর্টিস্ট—তার সঙ্গে কাজ করতে পারা আমার জন্য বিশাল সম্মানের বিষয় হবে।
সামনে নতুন কী কাজ আসছে?
নতুন নতুন বেশ কিছু কাজ আসছে। সিনেমার কাজও আছে। তবে এখনই ঘোষণা দিতে চাই না। আমি প্রচুর কাজ করি। যারা আমার ইউটিউব চ্যানেল অনুসরণ করেন, তারা দেখতে পান। যারা অনুসরণ করেন না, তারা জিজ্ঞেস করেন—‘গান তো করেন না, এখন কী করেন?’
আপনার বাবা একজন বরেণ্য সংগীত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর মতো করে সংগীত শেখানোর কোনো প্রতিষ্ঠান করার ইচ্ছা আছে?
একটা স্কুল করার ভাবনা অনেক দিনের। অনেক বড় দায়িত্ব। শুধু একটা স্কুল করে ফেললেই তো হয় না, সেটার জন্য অনেক সময় দিতে হয়। এটা আমার স্বপ্ন বলা যায়, আমি করব।







