বন্দুক হাতে পার্কে ঘোরার ভিডিও ভাইরাল, সেই দুই তরুণ গ্রেপ্তার

অস্ত্র হাতে দুই তরুণ। ছবি: ভাইরাল ভিডিও থেকে নেওয়া
নারায়ণগঞ্জের সিটি নগর পার্কে ‘বন্দুক’ হাতে দুই তরুণের ঘোরাফেরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেই দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বন্দর উপজেলার বন্দর বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি খেলনা বন্দুকও উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক হওয়া দুই তরুণ হলেন- লিমন তোহা (২২) ও ইয়াসিন মোল্লাকে (২৩)। লিমন তোহা বন্দর বাজার এলাকার মো. শাহীন আহমেদের ছেলে। অপর দিকে ইয়াসিন মোল্লার বাবা স্বপন মোল্লা। যে এলাকায় ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে, সেটি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার আওতাধীন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাওয়া বন্দুক দুটি খেলনা। সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। দুই তরুণকেও আটক করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুই তরুণ জানিয়েছেন, খেলনা বন্দুক ব্যবহার করে টিকটকের ভিডিও বানানোর উদ্দেশ্যেই তারা ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন। লিমন ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা করেননি। তিনি সাত বছর ধরে টিকটক করেন। আর ইয়াসিন ২০২২ সালে এসএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা করেননি। তিনি দুই বছর ধরে টিকটক করেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৩৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কালো রঙের লম্বা কুর্তা-পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই তরুণকে সিটি নগর পার্কের বিভিন্ন স্থানে বন্দুক হাতে ঘুরতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাদের পথচারী, রিকশাচালক ও শিশুসহ বিভিন্ন ব্যক্তির দিকে বন্দুক তাক করতেও দেখা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথম ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। পরে লিমনের ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়।
ভিডিওটি প্রকাশের পর নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। তখন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান জানিয়েছিলেন, তারা এমন কোনো ভিডিও সম্পর্কে অবগত নন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








