জনকল্যাণে বাবা-ছেলের দৃষ্টান্ত

রাস্তা মেরামত করছেন আক্কাস আলী (বাঁয়ে) ও তার ছেলে শাহ আলম -আগামীর সময়
টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার নয়াপাড়ার এলাকার বাসিন্দা আক্কাস আলী পেশায় একজন কৃষক। তার ছেলে শাহ আলম এনজিওকর্মী।
শাহ আলম করটিয়া সাদাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করে ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) চাকরি শুরু করেন। চাকরির পাশাপাশি মানুষের বিনোদনের জন্য হাস্যকর বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করতেন। বাবা তাকে এমন ভিডিও তৈরিতে বারণ করে বলতেন, ‘মানুষের জন্য ভালো কাজে সময় দাও।’
বাবার সে কথা শাহ আলমের মনে দাগ কাটে। একসময় তার মনে হলো হাস্যকর ভিডিও তৈরির চেয়ে মানুষের উপকারে আসে এমন কিছু কাজ করতে হবে। এরপর বাবা-ছেলে শুরু করেন রাস্তা ও নলকূপ মেরামত, সড়ক এবং মাইলফলক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
আক্কাস আলীর (৬২) ভাষ্য, ‘আমার ছেলে একসময় কনটেন্ট বানাত। সেসব কনটেন্ট দেখে ছেলেকে বোঝাতাম, বাবা এসব করে কী লাভ? এগুলো তো মানুষ দেখে হাসবে আর বিনোদন পাবে। তাই এগুলো বাদ দিয়ে ভালো কাজে মনোযোগ দাও। মানুষের উপকারে আসে এমন সব কাজ করো, যে কাজে আমিও তোমার সঙ্গে অংশ নেব।’
‘এরপর হঠাৎ একদিন সে আমাকে বলতে লাগল, বাবা মানুষের জন্য কিছু করতে হবে। পৃথিবী থেকে হঠাৎ করে একদিন চলে যেতে হবে। এমন কিছু করে যাব, যেন মরে গেলেও মানুষ আমাদের মনে রাখেন’— যোগ করেন আক্কাস আলী। শাহ আলম (৩৯) বললেন, ‘যেসব কাজে মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা পাওয়া যাবে, আমরা বাবা-ছেলে নিজ জেলায় এমন কাজ করছি। এক বছরে শতাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা এবং হাট-বাজারের নলকূপ মেরামত ও রঙ করেছি।’
শাহ আলমের বর্ণনায়— ‘কিছু কিছু কাজের জন্য সামান্য ইট, বালু, সিমেন্ট লাগে। সেজন্য আমরা কাজ করতে গিয়ে সঙ্গে কিছু টাকা রাখি। যে টাকা দিয়ে স্থানীয় কোনো দোকান থেকে ইট, বালু, সিমেন্ট কিনে ভাঙা রাস্তা মেরামত করি। অনেক সময় টাকা না থাকলে দূরে কোথাও না গিয়ে বাড়ির আশপাশের রাস্তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নেমে পড়ি।’
শাহ আলমের স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ভাষ্য , ‘আমার স্বামী ও শ্বশুর মিলে যে জনসেবামূলক কাজ করছেন, তা নিঃসন্দেহে ভালো। এ সময়টা তারা অন্যদের মতো আয়-রোজগারে এবং পরিবারের জন্য ব্যয় করতে পারতেন। এ কারণে আমি শুরুর দিকে তাদের নিরুৎসাহিত করেছি। কিন্তু এখন আমি তাদের কাজে উৎসাহ দিই।’ মধুপুর কালামাঝি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজগর আলী বললেন, বাবা-ছেলে নিঃস্বার্থ সমাজসেবা করে যাচ্ছেন। এতে সমাজের অন্যরা অনুপ্রাণিত হবেন। ক্যাব, মধুপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহিদ বলছিলেন, শাহ আলম ও তার ছেলের জনহিতকর কার্যক্রম সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়। তাদের এই মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক— এটাই প্রত্যাশা।







