আগাম শিমের দামে আগুন, কেজি ১৬০

ছবি: আগামীর সময়
বাজারে পাওয়া যাচ্ছে শীতকালীন সবজি শিম। বিক্রেতারা দাম হাঁকাচ্ছেন কেজি প্রতি ১৬০ টাকা। অন্যান্য সবজির জোগান পর্যাপ্ত থাকলেও, এই সবজি পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছেও কম। বাজারভেদে রয়েছে দামের তারতম্যও। তবে বাজারে শিথিল রয়েছে অন্যান্য সবজির দাম। বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন পণ্যের দামের এই চিত্র। প্রতিটি পণ্যের বাজারেই দামের পরিবর্তন রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে শসা ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে। গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। গত কয়েক সপ্তাহ আগেও কাঁচামরিচের দাম ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন দাম কমেছে প্রায় অর্ধেকের বেশি। বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০-১৫০ টাকায়।
কাঁচাবাজারের পণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকলেও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দাম। সপ্তাহ ও মাসের ব্যবধানে চাল, চিনি, আটা, ডিম ও দুধের মতো নিত্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ছে।
কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জাহিদুল ইসলাম বলছিলেন, ‘কাচা সবজির দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে, কিন্তু শিমের দাম শুনে সেটা কেনার সাহস হয়নি। তবে সবজির দাম আরও কমা উচিৎ। চাল, ডাল, তেলের দাম তো কমেই না। আসলে কমা দরকার এইসব পণ্যের দাম।’
বাজারে কাঁকরোল ৫০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, কচু ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, কাঁচা কলা হালিতে ৩০ টাকা, প্রতি পিস লাউ ৫০ টাকা কিন্তু গোল লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায় এবং কচুর লতি ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি উপাদান আলু ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শিহাব উদ্দীন বলেছেন, ‘বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ার কারণে দাম আগের তুলনায় কমছে। আর ঈদে মিলাদুন্নবীর কারণে ক্রেতাও আসছে অনেকেই। শিম শীতকালীন সবজি। বেশি দামে কিনতে হয় তাই বিক্রিও করতে হয় বেশি দামে।’
বর্তমানে বাজারে চিনি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১১০ টাকা। মাসের শুরুতে যে আটা ৫৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যেত, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়।
সাধারণ চালের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে পোলাও চাল। বাজারে খোলা পোলাওর চাল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং প্যাকেটজাত পোলাওর চাল ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তরল দুধ প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা কিছুদিন আগেও ছিল ১০০ টাকা।
নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে খুচরা ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ বললেন, ‘আমাদের বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কোম্পানিগুলো এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ কেজির চিনির বস্তায় প্রায় এক হাজার টাকা বাড়িয়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই।’
এদিকে মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া কেজি ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০- ২৫০, রুই-কাতল ৩৮০-৪২০ এবং চিংড়ি ১০০০-১৩০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কাঁচাবাজারের অস্থিরতা মৌসুম ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল হলেও আটা, চিনি বা দুধের মতো নিত্যপণ্যের দামের লাগামহীন বৃদ্ধি কেবল সরবরাহ সংকটের কারণে নয়। কর্পোরেট সিন্ডিকেট, পাইকারি পর্যায়ের অসাধু দালালি এবং তদারকির অভাবই এর জন্য প্রধানত দায়ী। খুচরা পর্যায়ে শুধু অভিযান না চালিয়ে আমদানিকারক ও মিল মালিকদের উৎপাদন ও বিক্রয়মূল্য নিয়মিত মনিটরিং এবং টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের খোলা বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি করা গেলে সাধারণ ক্রেতারা এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে পারেন।










